রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬ | সময়: ভোর ১:১৬

কোরবানি উপলক্ষে কদর বেড়েছে চুইঝালের

👁️ ২ Time View
Daraz horizontal banner

খুলনা-বাগেরহাট-সাতক্ষীরা অঞ্চলে গরুর মাংসের স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়াতে ঐতিহ্যবাহী মসলা হিসেবে চুইঝালের ব্যবহার দীর্ঘ দিনের। কোরবানি সামনে রেখে বাগেরহাটে বেড়েছে চুইঝালের চাহিদা। ফলে বেড়েছে দামও।
সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন কাঁচাবাজার ও মুদি দোকানের সামনে কালো রঙের শিকড় ওয়ালা গাছের স্তূপ। কালো রং ও ভেতরে সাদা এই লতানো গাছটির নাম চুইঝাল। চুইঝালের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের বেশ ভিড়। স্থানীয় ক্রেতাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ভিড় করছেন এসব দোকানে।
চুইঝাল ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর সরদার জানান, গ্রামে গ্রামে গিয়ে চুই গাছ কিনে কেটে বিক্রি করি। ঈদ ছাড়া স্বাভাবিক সময়ে পাইকারি প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ মণ বিক্রি করি। ঈদের সময় ৪০-৫০ মণ বিক্রি হয়। স্বাভাবিক সময়ে চুইঝালের দাম চারশ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। আর ঈদে দাম বেড়ে ৫০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছায়।
ফকিরহাট বাজারের চুইঝাল ব্যবসায়ী মামুন শেখ বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর বেশি সাড়া পাচ্ছি। অনলাইনেও বিক্রি করি। তবে অফলাইনে বেশি সাড়া পাচ্ছি। আমাদের এখানে পাহাড়ি চুই, রংপুরের চুই, ইন্ডিয়ান চুইসহ বাগেরহাটের স্থানীয় চুই রয়েছে। বাগেরহাটের চুইঝালের স্বাদ সবচেয়ে বেশি তাই এটার চাহিদাও অনেক।
চুইঝাল ক্রেতা আবু বক্কর বলেন, চুইঝাল যেমন খাবারে স্বাদ বাড়ায় তেমন ওষুধি গুণও রয়েছে। চুইঝাল ছাড়া মাংস তো জমেই না।
চুইঝাল ক্রেতা নাজির উদ্দিন বলেন, ৫০০-৭০০ টাকা হলে মোটামুটি মানের চুইঝাল পাওয়া যায়। এ চুইকে কেটে মাংসে দিলে স্বাদ বেড়ে যায়। এটি শরীরের জন্যও উপকারি। যাদের বাতের ব্যথা আছে তাদের ব্যথা কমায়।
চুইচাষী শরিফুল কামাল করিম বলেন, চাষের জন্য আলাদা কোনো জমির প্রয়োজন হয় না। বাড়ির আশপাশে ও বাগানে থাকা সুপারি, আম বা অন্য যে কোনো গাছের গোড়ায় লাগালে চুই গাছ বড় হয়। দু-তিন বছরের মধ্যে চুইঝাল বিক্রির উপযোগী হয়। স্বল্প পরিশ্রমে চাষাবাদ ও দাম ভালো হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ শুরু করেছি।
বাগেরহাটের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, বাগেরহাটে চুইঝালের স্বাদ বেশি থাকায় সারাবছরই চাহিদা থাকে। তবে কোরবানির সময় এটার চাহিদা কয়েকগুণ বাড়ে। কৃষকরা যাতে চুই চাষ বাড়ায় সে পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি চারা বিতরণ করা হচ্ছে।
নাহিদ ফরাজী/এএইচ/এমএস

Daraz horizontal banner
technoviable
Daraz square banner
technoviable

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সম্পর্কিত পোস্ট