
ফুটবল ম্যাচ মানেই শুধু ৯০ মিনিটের খেলা নয়, বরং বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, আবেগ আর জমজমাট সময়। ম্যাচ দেখার আনন্দ আরও বাড়িয়ে তোলে সঠিক খাবার। কিন্তু অনেকেই এই সময় অস্বাস্থ্যকর ফাস্ট ফুডে ঝুঁকে পড়েন, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই যদি একটু পরিকল্পনা করে খাবার নির্বাচন করা করলে ম্যাচের মজা যেমন থাকবে, তেমনি স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে।
হালকা স্ন্যাকসেই শুরু হোক ম্যাচ দেখা
রাতের খাবার অবশ্যই হালকা হওয়া উচিত। খুব ভারী খাবার খেলে ঘুম চলে আসে, আবার হজমেও সমস্যা হয়। তাই ভারী বা তেলেভাজা খাবারের বদলে হালকা স্ন্যাকস বেছে নিন। তেলে ভাজা চিপসের বদলে ঘরে তৈরি পপকর্ন একটি দারুণ অপশন। কম লবণ বা হালকা মসলা দিয়ে তৈরি পপকর্ন খেলে স্বাদও পাওয়া যায় আবার ক্যালোরিও নিয়ন্ত্রণে থাকে। এছাড়া ভাজা ছোলা, বাদাম বা বেকড স্ন্যাকস দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি আকর্ষণ কমায়।
সহজে খাওয়া যায় এমন খাবার
ম্যাচ দেখার সময় খাবার হতে হবে সহজ, দ্রুত এবং হাতে খাওয়ার মতো। এই ক্ষেত্রে স্যান্ডউইচ বা র্যাপ একেবারে পারফেক্ট। হোল হুইট ব্রেডে চিকেন বা ভেজিটেবল স্যান্ডউইচ শুধু টেস্টি নয়, বরং ব্যালান্সড ডায়েটও নিশ্চিত করে। চাইলে লেটুস, শসা, টমেটো, গ্রিলড চিকেন বা পনির যোগ করে খাবার তৈরি করতে পারেন। মেয়োনিজের পরিবর্তে টকদইয়ের সস ব্যবহার করলে ক্যালোরিও কম থাকবে।
আরও পড়ুন
রাত জেগে ম্যাচ দেখেও অফিসে থাকুন চাঙা
প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার থাকুক
দীর্ঘ সময় খেলা দেখার সময় শক্তি ধরে রাখার জন্য প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেদ্ধ ডিম, গ্রিলড চিকেন বা পনির কিউব ম্যাচ ডে স্ন্যাকস হিসেবে ভালো কাজ করে। এগুলো শুধু ক্ষুধা মেটায় না, বরং শরীরকে দীর্ঘ সময় অ্যাকটিভ রাখে। যারা ফিটনেস মেইনটেইন করতে চান, তাদের জন্য এই ধরনের খাবার সবচেয়ে উপযুক্ত।
মিষ্টির বদলে ফল বেছে নিন
ম্যাচের সময় মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা হওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু চকলেট বা ডেজার্টের বদলে তাজা ফলের বোল হতে পারে স্মার্ট চয়েস। আপেল, কলা, আঙুর বা তরমুজ মিশিয়ে বানানো ফ্রুট বোল শরীরকে ভিটামিন দেয় এবং হাইড্রেটেড রাখে। চাইলে টক দই মিশিয়ে ফ্রুট ইয়োগার্ট বানাতে পারেন। স্বাদ আরও বেড়ে যায়।
আরও পড়ুন
বিশ্বকাপ দেখতে বাড়িতে সাজিয়ে ফেলুন হোম স্টেডিয়াম
হাইড্রেশন খুব গুরুত্বপূর্ণ
রাত জেগে থাকলে শরীর ডিহাইড্রেটেড হয়ে যায়। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করা খুব জরুরি। লেবু পানি, ডিটক্স ওয়াটার বা ডাবের পানি শরীরকে সতেজ রাখে। অনেকেই কফি বা এনার্জি ড্রিংক খেয়ে থাকেন, তবে অতিরিক্ত ক্যাফেইন ঘুমের স্বাভাবিক চক্র নষ্ট করতে পারে, তাই পরিমাণে নিয়ন্ত্রণ রাখা উচিত।
ফাস্ট ফুডের স্বাস্থ্যকর ভার্সন
ফাস্ট ফুড পুরোপুরি বাদ দেওয়া কঠিন, তাই একটু হেলদি ভার্সন তৈরি করা যেতে পারে। হোমমেড পিৎজাতে কম চিজ আর বেশি সবজি দিযে তৈরি করলে স্বাদ যেমন থাকবে, তেমনি ক্ষতিও কম হবে। একইভাবে বেকড ফ্রেঞ্চ ফ্রাই বা লো অয়েল বার্গার তৈরি করতে পারেন।
মাঝরাতে বিশ্বকাপ ম্যাচ দেখা যেমন আনন্দের, তেমনি শরীরের যত্ন নেওয়াও জরুরি। সঠিক খাবার বেছে নিলে রাত জাগার ক্লান্তি অনেকটাই কমানো যায়।
সূত্র:গুড ফুড, বিবিসি, টাইমস অব ইন্ডিয়া
এসএকেওয়াই












