
‘প্রশাসন আমার কিছুই করতে পারবে না, আমি প্রতি মাসে থানায় ৬০ হাজার টাকা মাসোহারা দিয়ে ব্যবসা করি’ বলে মন্তব্য করেছেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা শহরের নদীপাড়ার রুপালি খাতুন নামে এক নারী মাদক কারবারি। পরে এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
শনিবার (১৩ জুন) রাত ১০টার দিকে স্থানীয়রা মাদক কারবার বন্ধ করার কথা বলতে গেলে ওই নারী স্থানীয়দের উদ্দেশ্যে এ কথা বলেন। পরে পুলিশ স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে রুপালি খাতুনের বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় রুপালি খাতুনের কাছ থেকে ২৫ পিস ও তার ছেলে আল-আমিনের (২২) কাছ থেকে ১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় রোববার (১৪ জুন) সকালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় তাদের আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। আদালত তাদের দুজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
জানা গেছে, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ শহর ও উপজেলাজুড়ে মাদকের বিস্তার লাভ করায় স্থানীয়রা তা প্রতিরোধের সিদ্ধান্ত নেন। এরই জেরে গত ১১ ও ১৩ জুন পৌর শহরের পাইকপাড়া গ্রাম থেকে দুই যুবককে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে স্থানীয়রা। পরে শনিবার রাতে স্থানীয়রা শহরের নদীপাড়া এলাকার রাসেল ও রুপালি খাতুনের বাড়িতে গিয়ে মাদক ব্যবসা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। ওই সময় রুপালি খাতুন ও আল-আমিন পুলিশকে মাসোহারা দেওয়ার বিষয়টি দাবি করেন। এ নিয়ে ঘটনাস্থলে স্থানীয়রা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজনকে আটক করে।
স্থানীয় টিটোন হোসেন নামে এক যুবক বলেন, আমরা স্থানীয় ১৮ থেকে ২০ জন মিলে নদীপাড়ার কয়েকজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িতে গিয়ে তাদের মাদকদ্রব্য বিক্রি বন্ধ করতে বলি। এ সময় রুপালি নামের এক নারী মাদক কারবারি আমাদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। ওই নারী বলেন, প্রশাসনও তাদের কিছু করতে পারবে না, তারা নাকি পুলিশকে মাসিক ৬০ হাজার টাকা চাঁদা দিয়ে ব্যবসা করেন।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন বলেন, এ ধরনের অভিযোগ ভিত্তিহীন। মাদক কারবারিরা জনরোষ থেকে বাঁচার জন্য মিথ্যা তথ্য দিয়েছে। কালীগঞ্জ থানা পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। পুলিশের বিরুদ্ধে মাসোহারা নেওয়ার কোনো প্রমাণ কেউ দিতে পারলে আমরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো।
এম শাহাজান/এনএইচআর/এএসএম












