শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬ | সময়: রাত ৮:৫৯

‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ কি ভারতের নতুন রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নেবে?

👁️ ২ Time View
Daraz horizontal banner

যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে বসে এক মাস আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৌতুকধর্মী ছবি ও বার্তা প্রকাশ করতেন অভিজিৎ দীপকে। কিন্তু এখন তিনি ভারতের তরুণদের ক্ষোভের প্রতীক হয়ে উঠেছেন। তার প্রতিষ্ঠিত ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি ( Cockroach Janta Party)’ শুরু হয়েছিল নিছক একটি রসিকতা হিসেবে। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই সেটি লাখো মানুষের সমর্থন পেয়ে আলোচিত আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।
ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্য কেন্দ্র করে এই দলের জন্ম। বেকার তরুণদের নিয়ে করা সেই মন্তব্যকে অনেকেই অবমাননাকর বলে মনে করেন। তারই প্রতিবাদে দিপকে ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ নামে একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক উদ্যোগ শুরু করেন। দ্রুতই এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং লাখো অনুসারী অর্জন করে। আন্দোলনটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পর সরকারের প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল সেটিকে দমন করার চেষ্টা।
দিপকে ধারণা করেছিলেন, ৬ জুন দিল্লি বিমানবন্দরে নামার পর তাকে গ্রেফতার করা হবে ও তার পরিকল্পিত সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হবে। কিন্তু বাস্তবে সরকার ভিন্ন পথ বেছে নেয়। দিল্লি পুলিশ দ্রুত তাকে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়।
দীর্ঘ বিমানযাত্রার ক্লান্তি নিয়েই ৩০ বছর বয়সী এই যোগাযোগ–পেশাজীবী দিল্লির কেন্দ্রস্থলের একটি বিক্ষোভস্থলে পৌঁছান। দুপুর নাগাদ সেখানে প্রায় এক থেকে দুই হাজার মানুষ জড়ো হয়। অধিকাংশই ছিলেন তরুণ। অনেকেই নিজেদের ভিডিও ধারণ করছিলেন।
সমাবেশে উপস্থিত মানুষজন ঢোল বাজান ও বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরীক্ষায় অনিয়ম ও ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। দিপকে দলিত নেতা ভীমরাও রামজি আম্বেদকরের আত্মজীবনী উঁচিয়ে ধরেন ও তাৎক্ষণিক বক্তৃতা দেন। তবে ভিড়ের কারণে তার বক্তব্য স্পষ্টভাবে শোনা যায়নি। প্রচণ্ড গরমে একপর্যায়ে তাকে অজ্ঞান হয়ে যেতে দেখা যায়।
দিপকের আন্দোলন যে ক্ষোভকে সামনে নিয়ে এসেছে, তা ভারতের বহু তরুণের দীর্ঘদিনের বাস্তবতা। বিক্ষোভকারীদের অনেকেই চাকরির অভাব এবং এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনা করেন, যা তাদের স্বপ্ন পূরণের বদলে বাধা সৃষ্টি করছে বলে তারা মনে করেন।
অনেকের অভিযোগ, ক্ষমতাসীনরা জবাবদিহির বাইরে থেকে যাচ্ছেন ও ভিন্নমত দমন করা হচ্ছে।
জয়পুর থেকে আসা নবীন নামের এক বিক্ষোভকারী বলেন, সমস্যা শুধু শিক্ষামন্ত্রী নন, ‘পুরো ব্যবস্থাই’ সমস্যাগ্রস্ত।
চণ্ডীগড়ের অরবিন্দ সিংয়ের মতে, নতুন এই দল ক্ষুব্ধ কিন্তু ভীত তরুণদের কথা বলার সাহস দিয়েছে। তিনি বলেন, কোনো কিছু স্বতঃস্ফূর্তভাবে খুব বড় হয়ে গেলে সেটি ফিরে এসে আপনাকে আঘাত করতেই পারে।
নবীন ও অরবিন্দ দুজনই তেলাপোকার মুখোশ পরে ছিলেন। সমাবেশে উপস্থিত জনতা স্লোগান দেয়, আমরা তেলাপোকা!
দিপকে এরই মধ্যে ভারতের বিভিন্ন স্থানে আরও সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছেন। তার সামনে ক্ষুব্ধ মানুষের অভাব নেই। পাশাপাশি তার হাতে রয়েছে একটি শক্তিশালী প্রতীক, যা ভারতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে এই আন্দোলনের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত। এর কোনো শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো নেই। দিল্লির সমাবেশে উপস্থিতির সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে কম ছিল। আন্দোলনের সুস্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তাও এখনও গড়ে ওঠেনি। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, দিপকে কি এই ক্ষোভকে দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ দিতে পারবেন?
ক্ষমতাসীনদের অনেকেই মনে করছেন, এটি হয়তো সাময়িক বিরক্তির কারণ ছাড়া আর কিছু নয়। এখন প্রমাণ করার দায়িত্ব ‘তেলাপোকা’দেরই।
সূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট
এসএএইচ

Daraz horizontal banner
Daraz square banner
technoviable
technoviable

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বাধিক পঠিত

Daraz square banner

সম্পর্কিত পোস্ট