রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬ | সময়: সকাল ৪:২৯

পাবনা মানসিক হাসপাতালের অনুকূল চন্দ্রের দুই ভবনের নিলাম স্থগিত

👁️ ৫ Time View
Daraz horizontal banner

পাবনার হেমায়েতপুরে মানসিক হাসপাতাল এলাকায় ঠাকুর শ্রী শ্রী অনূকুল চন্দ্রের স্মৃতি বিজড়িত বিশ্ববিজ্ঞান কেন্দ্র ও মাতৃমন্দিরের নিলাম কার্যক্রম আপাতত স্থগিত করেছে গণপূর্ত বিভাগ। মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে সৎসঙ্গ বাংলাদেশের কর্মীরা এই দুটি ভবন নিলাম বন্ধের দাবিতে জেলা প্রশাসক ও গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে সাক্ষাৎ করলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিলাম স্থগিত করা হয়।
সম্প্রতি পাবনা মানসিক হাসপাতালের সম্প্রসারণ ও আধুনিক ইনস্টিটিউট নির্মাণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে এই ভবন দুটি নিলামে বিক্রি ও ভেঙে ফেলার উদ্যোগ নেয় গণপূর্ত বিভাগ। পরে হাসপাতাল এলাকায় ঠাকুর শ্রী শ্রী অনূকুল চন্দ্রের স্মৃতি বিজড়িত বিশ্ববিজ্ঞান কেন্দ্র ও মাতৃমন্দির রক্ষার দাবি জানায় সৎসঙ্গ বাংলাদেশ।
সৎসঙ্গ বাংলাদেশের সহ সাধারণ সম্পাদক সুব্রত আদিত্য জানান, মানবধর্মের দীক্ষায় দীক্ষিত ধর্মপ্রচারক শ্রী শ্রী ঠাকুর অনূকুল চন্দ্র পাবনার হিমায়েতপুরে ১৮৮৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯২৯ সালে পাবনায় সৎসঙ্গ আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। মানুষের সামগ্রিক কল্যাণ ও বিজ্ঞানমনস্ক জীবনযাপনের জন্য তিনি সেখানে গড়ে তুলেছিলেন নানা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে অন্যতম ছিল, তার মায়ের স্মৃতিরক্ষার্থে নির্মিত ‘মাতৃ মন্দির’ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রসারে তৈরি ‘বিশ্ব বিজ্ঞান কেন্দ্র’। ১৯৪৬ সালে ঠাকুর সপরিবারে ভারতের দেওঘরে চলে যাওয়ার পর এখানকার অনেক স্থাপনা অযত্নে ও কালক্রমে পাবনা মানসিক হাসপাতাল চত্বরের ভেতরে পড়ে যায়। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভক্ত ও অনুরাগীর কাছে এই স্থানটি অত্যন্ত পবিত্র এবং গভীর আবেগের এক তীর্থভূমি।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি হেমায়েতপুরে মানসিক হাসপাতাল চত্বরে অবস্থিত ঠাকুরের এই ঐতিহাসিক ও ভগ্নপ্রায় স্থাপনাগুলো মঙ্গলবার টেন্ডার বা নিলাম আহ্বানের মাধ্যমে অপসারণ বা ভূমিস্যাৎ করার একটি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই খবরটি প্রকাশ্যে আসার পর বাংলাদেশসহ বিশ্বের নানা প্রান্তে থাকা ঠাকুরের অনুসারীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়। আমরা চাই, এই অনন্য ঐতিহাসিক ঐতিহ্যগুলোকে ভেঙে না ফেলে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে সংস্কার ও সংরক্ষণ করা হোক।
সৎসঙ্গ বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক নিখিল মজুমদার বলেন, সারা পৃথিবীতে ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের অন্তত ১০ কোটি ভক্ত আছেন। তারা ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত এই বিশ্ববিজ্ঞান কেন্দ্রে তীর্থ ভ্রমণে আসেন। এগুলো সৎসঙ্গ বাংলাদেশের মাধ্যমে সংস্কার করে ভক্তদের জন্য উন্মুক্ত করা হলে ধর্মানুভূতিকে সম্মান দেওয়ার পাশাপাশি সরকার বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্সও আয় করতে পারবে।
এদিকে, সৎসঙ্গ বাংলাদেশের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে মঙ্গলবার সকালে মানসিক হাসপাতাল এলাকার ভগ্নপ্রায় বিশ্ববিজ্ঞান কেন্দ্র ও মাতৃমন্দির সরেজমিন পরিদর্শন করে গণপূর্ত বিভাগ ও মানসিক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পাবনা মানসিক হাসপাতালের পরিচালক ডা. শাফকাত ওয়াহিদ ও গণপূর্ত বিভাগ পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ কবিরসহ কর্মকর্তারা এসময় সৎসঙ্গ বাংলাদেশের কর্মীদের বক্তব্য ও দাবি শোনেন। ধর্মানুভূতি ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় নিলাম কার্যক্রম আপাতত স্থগিত করে গণপূর্ত বিভাগ।
পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ কবির জানান, পাবনা মানসিক হাসপাতালে বিশ্বমানের আধুনিক ইনস্টিটিউট প্রকল্পের জন্য পুরাতন পরিত্যক্ত ভবন অপসারণে নিলাম কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। মোট ১৩টি পরিত্যক্ত ভবন নিলামের জন্য দরপত্র আহ্বান শুরু হবে বুধবার (৩ জুন)। এতে সৎসঙ্গীদের দাবিকৃত দুটি ভবনও ছিল। আমরা আপাতত এই দুটি ভবন নিলাম স্থগিত করেছি। পরবর্তীতে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিলাম কার্যক্রম স্থগিত করায় জেলা প্রশাসক ও গণপূর্ত বিভাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে সৎসঙ্গ বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ধৃতব্রত আদিত্য।
তিনি বলেন, আমাদের ধর্মানুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে নিলাম বন্ধ করায় সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। একইসঙ্গে সরকার যেন এই প্রাচীন স্থাপনাগুলোর ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব অনুধাবন করে এগুলোকে টিকিয়ে রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করে, যাতে আগামী প্রজন্ম ঠাকুরের বিজ্ঞানচেতনা ও মানবকল্যাণের এই গৌরবময় ইতিহাসকে সচক্ষে দেখার সুযোগ পায়।
পাবনা জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম জানান, বিষয়টি স্পর্শকাতর ও ধর্মীয় গুরত্বের কারণে নিলাম কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। সৎসঙ্গীদের সঙ্গে আলোচনা করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আলমগীর হোসাইন নাবিল/এনএইচআর/জেআইএম

Daraz horizontal banner
Daraz square banner
technoviable
technoviable

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সম্পর্কিত পোস্ট