রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬ | সময়: সকাল ৮:১৮

৩০ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন কুড়িগ্রামের দুই উপজেলা

👁️ ৬ Time View
Daraz horizontal banner

কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলায় টানা প্রায় ৩০ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সোমবার (২৫ মে) দুপুর থেকে মঙ্গলবার (২৬ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কার্যত অচল হয়ে পড়ে দুই উপজেলার বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা।
বিদ্যুৎ না থাকায় বিভিন্ন মোবাইল অপারেটর কোম্পানির নেটওয়ার্ক সেবাও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে পরিবার-স্বজন ও জরুরি প্রয়োজনেও যোগাযোগ করতে না পেরে দুর্ভোগে পড়েছেন মানুষজন। কোথাও কোথাও একটি-দুটি অপারেটরের দুর্বল নেটওয়ার্ক পাওয়া গেলেও অধিকাংশ এলাকায় মোবাইল সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল রানা বলেন, গত কয়েকদিন ধরেই দিন-রাতে মিলিয়ে মাত্র এক ঘণ্টার মতো বিদ্যুৎ পাচ্ছি। অথচ মাস শেষে অতিরিক্ত বিল দিতে হচ্ছে।
রৌমারীর যাদুরচরের বাসিন্দা সামিউল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইলের নেটওয়ার্কও বন্ধ হয়ে গেছে। অনলাইনে ঢুকতে পারছি না, কারও সঙ্গে যোগাযোগও করা যাচ্ছে না।
বিদ্যুৎ সংকটে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ব্যাটারিচালিত যানবাহন চালকরা। অটোভ্যানচালক আব্দুল বাকি মিয়া বলেন, কারেন্ট না থাকায় ব্যাটারি চার্জ দিতে পারছি না। গাড়ি নিয়ে বের হতে পারছি না। সামনে ঈদ, এ সময়ে আয়-রোজগার করার কথা, কিন্তু এখন হাত গুটিয়ে বসে থাকতে হচ্ছে।
রাজিবপুর বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী মো. শাহীন মাহমুদ জানান, ঈদকে সামনে রেখে ক্রেতারা এলেও বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকারে পণ্য দেখনো যাচ্ছে না। এতে ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
একই বাজারের মিষ্টি ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, সামনে ঈদ। মিষ্টি তৈরি করতে হবে। বিদ্যুৎ না থাকায় বাধ্য হয়ে কুপিবাতি জ্বালিয়ে কাজ করছি।
শুধু রৌমারী-রাজিবপুর নয়, সোমবার রাত থেকে কুড়িগ্রামের বিভিন্ন এলাকাতেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলছে। এতে শিক্ষা, ব্যবসা ও দৈনন্দিন স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
উলিপুর শহরের কলেজ শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, এখন গ্রাম আর শহরের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। আগে শহরে অন্তত কিছুটা স্বাভাবিক বিদ্যুৎ থাকত। এখন সামান্য মেঘলা আবহাওয়াতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না।
এ বিষয়ে জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির রৌমারী জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, রাত সাড়ে ৭টার দিকে মেইন লাইন চালু হয়েছে। আশা করছি রাতের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (চলতি দায়িত্ব) মো. শামীম পারভেজ বলেন, ঝড়-বৃষ্টির সময় প্রায়ই গাছ ভেঙে লাইনের ওপর পড়ে তার ছিঁড়ে যায়। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে অনেক সময় বিদ্যুৎ সংযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন রাখতে হয়।
রোকনুজ্জামান মানু/এএইচ/এমএস

Daraz horizontal banner
technoviable
technoviable
Daraz square banner

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সম্পর্কিত পোস্ট