
দেশে গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে গভীর শিলাস্তরে অনুসন্ধান জোরদারের অংশ হিসেবে দুটি অনুসন্ধান কূপ খননের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ‘শ্রীকাইল ডিপ-১’ ও ‘মোবারকপুর ডিপ-১’ নামের এই কূপ দুটি চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে খনন করতে ব্যয় ধরা হচ্ছে প্রায় ৭১৪ কোটি টাকা।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ‘৩টি অনুসন্ধান কূপ (শ্রীকাইল ডিপ-১, মোবারকপুর ডিপ-১ ও ফেঞ্চুগঞ্জ সাউথ-১) খনন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় টার্ন-কি ভিত্তিতে এই দুটি কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে চীনের চায়না হুয়াডিয়ান ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড (সিএইচইসি) নামের একটি প্রতিষ্ঠান দিয়ে এই কূপ দুটি খনন করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৭১৩ কোটি ৬৪ লাখ ৬৯ হাজার ৫১৯ টাকা।
এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে প্রস্তাবটির অনুমোদন মিললে পরবর্তী কর্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
আরও পড়ুন২০২৮ সালের মধ্যে ১৩৫ কূপ খনন করবে সরকার
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এখন শুধু অগভীর নয়, গভীর স্তরে থাকা হাইড্রোকার্বন অনুসন্ধান অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। বর্তমানে দেশে আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রগুলোর বেশিরভাগই অগভীর স্তরে সীমাবদ্ধ। এ অবস্থায় গভীর স্তরে নতুন গ্যাসের মজুত খুঁজে বের করতে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় কুমিল্লার মুরাদনগরে শ্রীকাইল এলাকায় এবং পাবনার সুজানগরে মোবারকপুর এলাকায় প্রায় ৬ হাজার মিটার গভীরতায় দুটি অনুসন্ধান কূপ খনন করা হবে। এছাড়া মৌলভীবাজারের রাজনগরে ফেঞ্চুগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্রের দক্ষিণাংশে আরও একটি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে।
বাপেক্স সূত্রে জানা গেছে, তিনটি কূপ সফলভাবে খনন করা গেলে প্রায় ১ হাজার ১৮ বিসিএফ উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুত পাওয়া যেতে পারে। প্রাথমিকভাবে গ্যাস ইনিশিয়ালি ইন-প্লেস (জিআইআইপি) ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৬৯৬ বিসিএফ।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)-এর পরিচালক পর্যদ সভায় টার্ন-কি ভিত্তিতে প্রস্তাবিত প্রকল্পের ডিপিপি অনুমোদিত হয়। পরবর্তীতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় বাপেক্স-এর অধীনে জিওবি ঋণ ও নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্পটি অনুমোদ দেওয়া হয়।
গত বছরের ১ ডিসেম্বর একনেক থেকে অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পটির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ১৩৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৯০৯ কোটি টাকা সরকার ‘উন্নয়ন ঋণ’ হিসেবে দেবে এবং বাকি ২২৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা বাপেক্স নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেবে।
এদিকে, সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে ১ কোটি ৩০ লাখ ৩২ হাজার লিটার পরিশোধিত পাম অলিন এবং ২ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার দুটি প্রস্তাব উপস্থান করা হতে পারে।
এছাড়া বৈঠকে আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় স্পট মার্কেট থেকে তিন কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব নিয়ে যেতে পারে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। পাশাপাশি নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেডের (নওপাজেকো) স্থাপিত সিরাজগঞ্জ ২২৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল (ইউনিট-২) এবং ভেড়ামারা ৪১০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পুনর্নির্ধারিত লেভেলাইজড ট্যারিফ (গড় সমন্বিত বিদ্যুৎ মূল্য) অনুযায়ী বিদ্যুৎ কেনার প্রস্তাব উপস্থাপন করা হতে পারে।
এমএএস/এমকেআর







