রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬ | সময়: দুপুর ১২:০১

শিশুদের উচ্ছ্বাসে প্রাণ পেলো হাতিরঝিল 

👁️ ৪ Time View
Daraz horizontal banner

পবিত্র ঈদুল আজহার পরদিন আজ শুক্রবার বিকেলটা শিশুদের প্রাণচাঞ্চল্য আর উচ্ছ্বাসে ভরপুর ছিল রাজধানীর হাতিরঝিল। পরিবার-পরিজন নিয়ে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ছুটে আসেন হাতিরঝিলে। ঈদের নতুন পোশাক পরে শিশুরা মেতে ওঠে ঘোরাঘুরি, ছবি তোলা আর খেলনা কেনার আনন্দে।  
ঈদের দিন পশু কোরবানি ও অতিথি আপ্যায়নের ব্যস্ততা শেষ করে অনেক অভিভাবকই এদিন সন্তানদের নিয়ে বের হন একটু স্বস্তির সময় কাটাতে। বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে হাতিরঝিলের অ্যাম্ফিথিয়েটার এলাকা, পুলিশ প্লাজা, রামপুরা ব্রিজ এলাকা, ওয়াকওয়ে ও লেকপাড়জুড়ে বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়।  

শুক্রবার (২৯ মে) হাতিরঝিলের পুলিশ প্লাজা অংশে দেখা যায়, সাত বছর বয়সী সামিহা ইসলাম বাবার হাত ধরে ঘুরছে। গোলাপি রঙের নতুন পোশাকে বেশ উচ্ছ্বসিত এই শিশু বলে, ঈদের দিন বাসায় ছিলাম। আজকে এখানে এসে অনেক ভালো লাগছে। আমি আজ অনেক ঘোরাঘুরি করবো আর ছবি তুলবো।  

একটু দূরে খেলনা বিক্রেতার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল শিশু আবির হোসেন। হাতে খেলনা বন্দুক নিয়ে আনন্দে আত্মহারা সে। আবির বলে, অনেক বাচ্চা এসেছে। আম্মু আমাকে খেলনা কিনে দিয়েছে। এখানে ঘুরতে খুব মজা লাগছে।  
পাশেই থাকে একটি গাড়িতে (শিশুদের খেলার জন্য রাখা) চড়ে ছবি তুলছিল ৮ বছর বয়সী জায়ান। জাগো নিউজকে সে বলে, গতকাল আমরা কোরবানি দিয়েছি। সবাই বাসায় ছিলাম, তাই ঘুরতে বের হতে পারিনি। আজ আব্বু ও আম্মুর সঙ্গে ঘুরতে এসেছি। অনেক আনন্দ হচ্ছে।  

লেকপাড়ে পরিবারের সঙ্গে ছবি তুলছিল দশ বছর বয়সী তাসনিম আক্তার। সে জানায়, ঈদের ছুটিতে বাইরে ঘুরতে আসার জন্য সে অপেক্ষা করছিল। রাতে লাইট জ্বললে হাতিরঝিল আরও সুন্দর লাগে। সেই আলোতে হাতিরঝিল দেখবে। এরই মধ্যে অনেক ছবি তুলেছে, আরও ছবি তুলবে বলে জানায় সে।
আরও পড়ুনকতটা সরলো ঢাকার কোরবানির বর্জ্য, দেখতে বেরিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী চিড়িয়াখানায় ‘প্রাণ’ ফিরিয়েছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ 
বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে আসা স্কুলশিক্ষার্থী রহমান বলে, আমরা পাঁচ বন্ধু একসঙ্গে ঘুরতে এসেছি। সবাই আইডিয়াল স্কুলের নবম শ্রেণিতে পড়ি। আমরা সবাই একসঙ্গে ফুচকা খেয়েছি। পরে নৌকায় উঠবো। ঈদের ছুটিতে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে খুব ভালো লাগে।
শুধু শিশুরাই নয়, তাদের আনন্দ দেখে খুশি অভিভাবকেরাও। অনেকেই বলছেন, ব্যস্ত নগরজীবনে সন্তানদের সময় দেওয়ার সুযোগ কম মেলে। ঈদের ছুটি সেই সুযোগ তৈরি করে দেয়।  

বাড্ডা থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মো. হুমায়ূন আহমেদ বলেন, সারাবছর কাজের ব্যস্ততা থাকে। ঈদের পরের দিনটা বাচ্চাদের জন্য রাখার চেষ্টা করি। এখানে খোলা পরিবেশ আছে, তাই ওদের ভালো লাগে। 
রামপুরার গৃহিণী নাসরিন আক্তার বলেন, ঈদের দিন রান্নাবান্না আর অতিথি নিয়েই সময় যায়। আজ বাচ্চাদের একটু ঘুরতে নিয়ে এলাম। ওদের আনন্দ দেখেই ভালো লাগছে। 

মগবাজার থেকে আসা সালমান তারেক বলেন, পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর জন্য হাতিরঝিল এখন সুন্দর একটি জায়গা। বাচ্চারাও এখানে নিরাপদে আনন্দ করতে পারে। তবে সন্ধ্যার পর পরই বাসায় চলে যাবো। কারণ, রাতে পরিবার নিয়ে বাইরে থাকা নিরাপদ বোধ করি না। 

বিকেলের পর খাবারের দোকানগুলোতেও বাড়তে থাকে ভিড়। ফুচকা, চটপটি, আইসক্রিম ও হাওয়াই মিঠাই কিনতে শিশুদের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ বাবার হাত ধরে আইসক্রিম খাচ্ছে, কেউ আবার রঙিন বেলুন হাতে দৌড়াচ্ছে। 
ফুচকা বিক্রেতা মজিবুর রহমান বলেন, গতকাল ঈদের দিন মানুষ কম ছিল। আজ হাতিরঝিলে মানুষ ভালোই হয়েছে। এতে আমাদের বিক্রিও ভালো হচ্ছে। 
এমএএস/কেএসআর

Daraz horizontal banner
technoviable
technoviable
Daraz square banner

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সম্পর্কিত পোস্ট