
শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, শিক্ষকদের হাতে ট্যাব, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উচ্চগতির ওয়াই-ফাই, শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে পোশাক, স্কুল ব্যাগ ও জুতা, মাধ্যমিকে কারিগরি শিক্ষা এবং উচ্চশিক্ষায় গবেষণা অনুদান দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের তথ্য পর্যালোচনা করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে নতুন অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী জানান, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য শিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করা।
আরও পড়ুন
৪ বছর পর শিক্ষায় জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দ, আরও বাড়ানোর অঙ্গীকার
বাজেটের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের অংশ হিসেবে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচির আওতায় শিক্ষকদের ট্যাব সরবরাহ করা হবে। পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে উচ্চগতির ওয়াই-ফাই সংযোগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক স্তরের প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে পোশাক, স্কুলব্যাগ ও জুতা দেওয়ার পরিকল্পনাও বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
শিক্ষাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন, বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ এবং সামাজিক ও ভৌগোলিক বৈষম্য নিরসনের বিভিন্ন কর্মসূচির জন্য ৪ হাজার ১৯৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রতিবছরের মতো শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক পৌঁছে দিতে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মিড-ডে মিল কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
নারী শিক্ষার প্রসারে মেয়েদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার সুবিধা বজায় রাখার কথা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি ও মেধাবৃত্তি কার্যক্রমের জন্য ৫ হাজার ৫৩৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বকেয়া পরিশোধে বাজেটে বরাদ্দ ৪৯০ কোটি টাকা
বিদ্যালয়বহির্ভূত শিশুদের শিক্ষার আওতায় আনতে উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক শিক্ষা কর্মসূচির জন্য ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া ‘সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে কারিগরি শিক্ষা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
উচ্চশিক্ষায় গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের মাধ্যমে গবেষণা অনুদান হিসেবে ২২৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যের পরিকল্পনা কী
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ জিডিপির ০.৫৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১.০১ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণে বাজেটে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য সেবার উন্নয়নের জন্য ২ হাজার ২৬৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
একই সঙ্গে দেশব্যাপী সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় ওষুধ ও টিকার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে ৭ হাজার ৬২৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। জরুরি স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে ২৪ ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালুর জন্য ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
স্বাস্থ্য-শিক্ষায় গুরুত্ব দিয়ে বাজেটে ৩ লাখ কোটি টাকার এডিপি বরাদ্দ
এছাড়া স্বাস্থ্য খাতে জনবল সংকট দূর করতে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী এবং ৫ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ই-হেলথ কার্ড চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজ, দ্রুত ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রদান করা হবে।
পাশাপাশি বেকার তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং স্বাস্থ্যসেবায় দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে চার মাস মেয়াদি ‘জেনারেল কেয়ারগিভার’ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এমএএস/এসএইচএস












