
উড়ন্ত শুরু করলেও পাওয়ার প্লেতে চেপে ধরেছিল বাংলাদেশ। তবে মাঝের ওভারগুলোতে টিম ডেভিড ও ম্যাট রেনশর তাণ্ডবে দিশেহারা হয়ে পড়েন বাংলাদেশের বোলাররা। ৭ থেকে ১৬ ওভারের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার স্কোরবোর্ডে যোগ হয় ১১০ রান। দু’জনে গড়েন ৯৭ রানের জুটি। তবে এরপর ডেথ ওভারে আবার ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশের বোলাররা। তবে মাঝের ওভারে অতি আগ্রাসী ব্যাটিং করায় এবং শেষ ওভারে মোস্তাফিজ ২ ছক্কায় খাওয়ায় ঠিকই বড় পুঁজি পেয়েছে অস্ট্রেলিয়ার।
শুক্রবার শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাটিং করা অস্ট্রেলিয়া নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৯৬ রান করেছে। দলটির হয়ে ৫২ বলে সর্বোচ্চ ৮৯ রান করেন ম্যাট রেনশ। ৫টি ছক্কা মারেন তিনি।
এর আগে শুরুটা দুর্দান্ত করে অস্ট্রেলিয়া। নাসুম আহমেদের করা প্রথম ওভার থেকে আসে ১০ রান। পরের ওভার করতে আব্দুল গাফফার সাকলায়েন খরচ করেন ১৫ রান। প্রথম ২ ওভারে ২৭ রান তোলা অস্ট্রেলিয়া এরপর টানা দুই ওভারে হারায় ২ উইকেট। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে জস ইংলিসকে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে ফেলেন নাসুম আহমেদ। রিভিউ নিলেও শেষ রক্ষা হয়নি তার, এর আগে করেন ৬ বলে ১১ রান।
পরের ওভারে প্রথমবার আক্রমণে এসেই উইকেট তুলে নেন নাহিদ রানা। ঘণ্টায় ১৪৪ কিলোমিটার গতিতে অফ স্টাম্পের বাইরে ফুল লেন্থে ডেলিভারি করেছিলেন তিনি, সেটা ড্রাইভ করতে গিয়ে স্লিপে সাইফ হাসানের হাতে ধরা পড়েন কুপার কনোলি। ব্যাটের বাইরে লেগে যাওয়া ক্যাচ লম্বা ডাইভ দিয়ে তালুবন্দি করেন সাইফ।
এরপর পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে এসে সবচেয়ে বড় শিকারটা ধরেন মোস্তাফিজ। তাকে উড়িয়ে মারতে গিয়েছিলেন মিচেল মার্শ। সেটা ঠিকঠাক টাইমিং না হওয়াতে বল উপরে উঠে যায়, ৩০ গজের বৃত্ত থেকে পিছনে দৌড়ে দারুণ ক্যাচ ধরেন সাইফ হাসান। ফেরার আগে ১৯ বলে ২০ রান করেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক।
তবে টিম ডেভিড এরপর পাল্টা আক্রমণে সব চাপ সরিয়ে দেন। ৮ থেকে ১০, এই ৩ ওভারে ৪০ রান যোগ হয় স্কোরবোর্ডে। এর মধ্যে দশম ওভার করতে আসা সাকলাইনকে ওই ওভারেই ডেভিড হাঁকান ২ ছক্কা ও ১ চার। এরপর ত্রয়োদশ ওভারে রিশাদ হোসেনকে টানা ৩ ছক্কা হাঁকান ম্যাট রেনশ। এর মধ্যে তৃতীয় ছক্কায় ২৯তম বলে ফিফটি পূর্ণ করেন রেনশ। ১৪তম ওভারে নাহিদ রানাকেও ছক্কা হাঁকান টিম ডেভিড। পরের বলেই ওয়াইডসহ চার রানে আসে আরও ৫ রান।
পরের ওভার করতে এসে প্রথম বলেই ৪ হজম করলেও দ্বিতীয় বলে টিম ডেভিডকে ফিরিয়ে দেন সাকলায়েন। ফেরার আগে ২৬ বলে ২ চার ও ৪ ছক্কায় ৪৫ রান করেন ডেভিড। ১৫ ওভার শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ছিল ১৪৭ রান।
১৬তম ওভারে আক্রমণে এসে ৭ রান খরচ করে নিখিল চৌধুরীকে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে ফেলেন নাসুম। এরপর শেষদিকে বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শেষের দিকে রানের চাকা আটকে দিয়েছিল। কিন্তু মোস্তাফিজের করা শেষ ওভারের ১৮ রানে প্রায় দুইশ ছোয়া পুঁজি পায় অজিরা।
এসকেডি/আইএইচএস/












