শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬ | সময়: রাত ৯:০৮

গাইবান্ধায় নদ-নদীর পানি কমছে, শুরু হয়েছে ভাঙন

👁️ ১ Time View
Daraz horizontal banner

উজানের ঢল কমার সঙ্গে সঙ্গে গাইবান্ধার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি হ্রাস পেলেও জেলাজুড়ে তীব্র আকার ধারণ করেছে নদীভাঙন। গত এক মাসে পানি ওঠানামার ফলে জেলার চার উপজেলার অন্তত ২৫টি পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
ভাঙনে ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে দুই শতাধিক বসতভিটা ও বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, ঢল ও বৃষ্টি শুরু হলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে। আর ভাঙন প্রতিরোধে লোক দেখানো কাজ বন্ধ করে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
স্থানীয়রা জানান, গাইবান্ধার প্রধান নদ-নদীগুলোতে পানি বাড়া-কমার মধ্যে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। প্রতিনিয়তই নতুন করে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা ও আবাদি জমি। জেলার চার উপজেলার অন্তত ২৫টি পয়েন্টে প্রায় ২০০ বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের শঙ্কায় রয়েছে আরও শতাধিক পরিবার।
জানা যায়, পানি কমায় চরাঞ্চলের ঘরবাড়ি থেকে পানি নেমে স্পষ্ট হচ্ছে ক্ষয়ক্ষতি। চোখের সামনে নিজেদের শেষ সম্বল হারিয়ে ও বাড়িঘর হারানোর আতঙ্কে দিন পার করছেন নদীপাড়ের হাজারো বাসিন্দা।
গাইবান্ধার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুর ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ১৫ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ৭১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদের পানি ফুলছড়ির তিস্তামুখ পয়েন্টে দুই সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে ১১৬ সেন্টিমিটার, ঘাঘট নদীর পানি জেলা শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে ৯ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ১৬৪ সেন্টিমিটার এবং গোবিন্দগঞ্জের করতোয়া নদীর পানি চকরহিমাপুর স্টেশন পয়েন্টে ৮ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ২০৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
গত এক মাস ধরে জেলার সবগুলো নদ-নদীর পানি কখনো বাড়ছে, আবার কখনো কমছে। আর এই পানি ওঠানামার সঙ্গে শুরু হয়েছে নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে তীব্র ভাঙন।

এতে করে জেলা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার নদীর তীরবর্তীসহ চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ফলসি ও বসতবাড়ি ভিটা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। চোখের সামনে নিজেদের শেষ সম্বল হারিয়ে ও বাড়িঘর হারানোর আতঙ্কে দিন পার করছেন নদীপাড়ের হাজারো বাসিন্দা। গাইবান্ধার সদর উপজেলার কামারজানি, শহর রক্ষাবাঁধ, ফুলছড়ির বালাসী ফেরিঘাট, সাঘাটা উপজেলার শহরসহ বেশ কিছু সরকারি বেসরকারি স্থাপনা হুমকির মধ্য রয়েছে। ভাঙন রোধে আসন্ন বন্যার আগেই ব্যবস্থা না নিলে জেলার বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
ভাঙন কবলিত এলাকার স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজের গাফিলতি ও স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ না করায়, প্রতিবছর তাদের নদী ভাঙনের শিকার হতে হয়। কোনো সাহায্য নয়, নদী ভাঙনের স্থায়ী সমাধানের দাবি তাদের।
গাইবান্ধা সদর উপজেলার দিগারি ইউনিয়নের রহমান নগরের বাসিন্দা হাকিম বলেন, ‘বন্যার পানি বাড়ার সময় একবার ভাঙনে ফসলি জমিসহ বসত বাড়ি ভিটা নদীতে গেছে। আবার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গেই নতুন করে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। চরের মানুষ সারা বছরই নদী ভাঙনে শিকার হই।’
সুন্দরগঞ্জের কাশিম বাজারের বাসিন্দা রুমিনা বেগম বলেন, ‘গত এক মাসে তিস্তার পানি কমা- বাড়ায় সব শেষ হয়ে গেছে। ফসলের জমিগুলো নদীতে পড়ে গেছে। বান আসলেই দুইবার বাড়ি- ঘর সরানো লাগে। কই কেউ তো খবর নেয় না।’
ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়ার আশরাফ মিয়া বলেন, ‘নদীতে পানি কমা শুরু হয়েছে। নদীর পাড় গুলো ধপাস ধপাস করে ভেঙে নদীতে পড়ে যাচ্ছে। হামারে কষ্ট কি কেউ বুঁচবে? নদী ভাঙন কেনা বন্ধ হলো, হামরা অনেক মুক্তি পামো। প্রত্যক বছর নদী ভাঙন থেকে রক্ষা পানু হয়।‘
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রসহ সব কয়টি নদীর পানি হ্রাস পেতে শুরু করছে। কয়েকদিনের মধ্য বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এতে চরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চলগুলো আরও প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পানি হ্রাস- বৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন জায়গায় নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলে প্রতিরোধের চেষ্টা করছি।’
আনোয়ার আল শামীম/এসজেডএইচ/জেআইএম

Daraz horizontal banner
technoviable
technoviable
Daraz square banner

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সম্পর্কিত পোস্ট