শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ | সময়: ভোর ২:১৬

কাঠখড় পুড়িয়ে দলে ফেরা আফিফের ব্যাটিংয়ে এ কেমন ‘চোখের যন্ত্রণা’!

👁️ ১ Time View

৪৯ বলে ২৭ রান। ইনিংসে নেই কোনো বাউন্ডারি, কোন বড় শট! এই পরিসংখ্যান দেখেই যে কারো মনে হবে কি স্বার্থপর ইনিংস। তবে যারা শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আফিফ হোসেনের এই ইনিংসটা সরাসরি দেখেছেন, তাদের কাছে শুধু স্বার্থপর মনে হবে না, মনে হবে যেন চোখের যন্ত্রণা!
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এদিন আগে ব্যাটিং করে ২৪৭ রান করে নিউজিল্যান্ড। জবাবে ২১ রানে ২ উইকেট হারালেও ৯৩ রানের জুটি গড়ে দলকে খেলায় ফেরান লিটন কুমার দাস ও সাইফ হাসান। দলীয় ১৩২ রানে চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে লিটন আউট হলে উইকেটে আসেন আফিফ।
এরপর শুরু হয় তার অদ্ভুতুড়ে ব্যাটিং। প্রথম ১২ বলে মাত্র দুইবার প্রান্ত বদল করতে পেরেছিলেন আফিফ। বাঁহাতি স্পিন হোক বা পেস বোলিং, আফিফ আসলে কি করতে চাচ্ছিলেন সেটা তিনিও বলতে পারবেন কিনা তা নিয়ে সংশয় থাকতে পারে।
২৬ বল খেলা শেষে আফিফের নামের পাশে যোগ হয় ১১ রান। অথচ তিনি যখন ব্যাটিংয়ে নামেন, তখন ২২ ওভার ৪ বলে বাংলাদেশের প্রয়োজন ১১৬ রান। ফলে শুধু নিয়মিত সিঙ্গেল খেললেও চাপে পড়ার পরিস্থিতিই তৈরি হতো না।
উইকেটের আনইভেন বাউন্স ছিল, কখনো বল উঠছিল, কখনো নামছিল, টার্নও ছিল। ফলে বাউন্ডারি মারাটা তুলনামূলক কিছুটা কঠিন লাগতেই পারে। তবে সিঙ্গেল খেলাটাও এতটা কঠিন হওয়ার কথা নয়।
তবে আফিফ অবশ্য সেই সহজকেই করেছেন কঠিন! না হলে একটা ব্যাটার ৪৯ বল খেলে মাত্র ২৭ রান করেন কিভাবে! যেখান থেকে বাংলাদেশের ম্যাচ সহজেই জেতার কথা, সেখান থেকে যখন আউট হলেন আফিফ, আর শেষ পর্যন্ত এই খেলা হেরেই গেছে বাংলাদেশ।
গত মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে দলে ফেরানোর সময় তখনকার প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু বলেছিলেন, আফিফকে ছন্দে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু দলে ফেরার পর এখন পর্যন্ত ৩ ইনিংসে ব্যাটিং করা এই বাঁহাতিকে দেখলে কেউই বলবেন না, ছন্দের ধারেকাছেও তিনি আছেন।
পাকিস্তানের বিপক্ষে এক ইনিংসে ১৫ বলে ১৪, আরেক ম্যাচে শেষদিকে নেমে ৮ বল খেলে করতে পেরেছিলেন মাত্র ৫ রান। আজ তো বলতে গেলে বাংলাদেশের হারের অন্যতম কুশীলব বলা যায় তাকে। দর্শকরা আফিফের ব্যাটিং দেখে ধৈর্য হারিয়ে রীতিমত দুয়োধ্বনি দিচ্ছিলেন।
এসকেডি/এমএমআর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সম্পর্কিত পোস্ট