রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬ | সময়: দুপুর ১:০৬

চীনের হাইনান প্রদেশ সফরে গণমাধ্যম প্রতিনিধিদল

👁️ ২ Time View
Daraz horizontal banner

চীন প্রতিনিধি
চীনের দক্ষিণাঞ্চলের দ্বীপ প্রদেশ হাইনানের জনপ্রিয় পর্যটন, উচ্চমানের উন্মুক্ত অর্থনীতি, সবুজ উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মডেল বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া ট্যুর অনুষ্ঠিত হয়েছে।
‘হোয়াই চীন: ওয়াকিং লিংশুই” শীর্ষক ছয় দিনব্যাপী এই সফরে বাংলাদেশসহ ১২টি দেশের সাংবাদিক, সম্পাদক, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ, বিদেশি ব্লগার ও চীনা ভাষার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
আয়োজনটির উদ্দেশ্য ছিল কেবল হাইনানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখা নয়, বরং মুক্ত বাণিজ্য বন্দরের বাস্তব অগ্রগতি, পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, চিকিৎসা পর্যটন, আন্তর্জাতিক শিক্ষা এবং গ্রামীণ পুনরুজ্জীবনের অভিজ্ঞতা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করা।
বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য ২১ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত যৌথভাবে এই ভ্রমণের আয়োজন করে হাইনান প্রাদেশিক আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক বিনিময় কেন্দ্র এবং লিংশুই লি স্বায়ত্তশাসিত কাউন্টির স্থানীয় সরকার। সহায়তা করে চায়না নিউজ সার্ভিস (বেইজিং) ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিকেশন গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেডের হাইনান শাখা এবং লিংশুই লি স্বায়ত্তশাসিত কাউন্টির পর্যটন, সংস্কৃতি, বেতার, টেলিভিশন ও ক্রীড়া ব্যুরো।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আয়োজকরা জানান, বিশ্বের অনেক মানুষ এখনো হাইনানকে শুধুই একটি পর্যটন দ্বীপ হিসেবে চেনেন। কিন্তু বাস্তবে এটি এখন চীনের উচ্চমানের সংস্কার ও উন্মুক্তকরণের অন্যতম পরীক্ষাগার। তাই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সরাসরি এখানে এনে বাস্তব চিত্র দেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে তারা নিজেদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বিশ্বের মানুষের কাছে হাইনানের প্রকৃত গল্প তুলে ধরতে পারেন।
সফরের অন্যতম আকর্ষণ ছিল লিংশুই লি স্বায়ত্তশাসিত কাউন্টি। দক্ষিণ চীন সাগরের তীরে অবস্থিত এই শহরকে এখন হাইনানের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় উপকূলীয় উন্নয়ন অঞ্চলের একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সমুদ্র, পাহাড়, বন, নদী ও আদিবাসী সংস্কৃতির অনন্য সমন্বয়ে গড়ে ওঠা লিংশুই একই সঙ্গে পর্যটন, শিক্ষা, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও সামুদ্রিক অর্থনীতির কেন্দ্র হিসেবেও দ্রুত বিকশিত হচ্ছে।
ছয়দিনের এই সফরে প্রতিনিধিদলটি ফেনচিয়েঝৌ দ্বীপ, দিয়াও লুওশান জাতীয় বন উদ্যান, হাইফেং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন কেন্দ্র, লি’আন আন্তর্জাতিক শিক্ষা উদ্ভাবন পরীক্ষামূলক অঞ্চল, হাইনান ওশান অ্যামিউজমেন্ট ওয়ার্ল্ড, শুয়াং ফানশি মেরিন স্পোর্টস সেন্টার, ছিওং ইয়া সোভিয়েত সরকারের প্রাক্তন স্থান, দানচিয়া জাদুঘর, নানওয়ান মাঙ্কি আইল্যান্ড, ট্রপিক্যাল ফরেস্ট এক্সপো পার্ক এবং চিলিং ক্যারেক্টারিস্টিক ভিলেজসহ বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করে।

প্রতিনিধিদলটি লিংশুইয়ের উন্নতমানের প্রাকৃতিক পরিবেশ, দানজিয়ার সমৃদ্ধ লোকরীতি, গভীর বিপ্লবী ইতিহাস, পরিবেশ সংরক্ষণ, গ্রামীণ পুনরুজ্জীবন, আন্তর্জাতিক শিক্ষা সুবিধা, ডিজিটাল চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শিল্প, উপকূলীয় অবসর ও অবকাশ এবং জলক্রীড়াসহ অন্যান্য বিভিন্ন উন্নয়ন ধারা স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করে।
সফরে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকরা বলেন, তারা হাইনান সম্পর্কে আগে যতটুকু জানতেন, বাস্তবে এসে তার চেয়ে অনেক বেশি সম্ভাবনাময় একটি অঞ্চল দেখতে পেয়েছেন। অনেকের মতে, মুক্ত বাণিজ্য বন্দর, আন্তর্জাতিক পর্যটন, ডিজিটাল প্রযুক্তি, চিকিৎসা, শিক্ষা এবং পরিবেশ সংরক্ষণ- সবকিছুকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার যে প্রচেষ্টা হাইনানে দেখা যাচ্ছে, তা বিশ্বের অন্যান্য উন্নয়নশীল অঞ্চলের জন্যও শিক্ষণীয় হতে পারে।
একসময় শুধু সমুদ্রসৈকতের জন্য পরিচিত হাইনান আজ প্রযুক্তি, শিক্ষা, চিকিৎসা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার এক নতুন কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। বাংলাদেশের জন্যও এই অভিজ্ঞতা তাৎপর্যপূর্ণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে পর্যটন, শিক্ষা, চিকিৎসা, বিনিয়োগ এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। হাইনানের মতো একটি আন্তর্জাতিক মুক্ত বাণিজ্য বন্দর বাংলাদেশের ব্যবসায়ী, পর্যটক, শিক্ষার্থী এবং বিনিয়োগকারীদের জন্যও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।
একিউএফ/এমএস

Daraz horizontal banner
technoviable
technoviable
Daraz square banner

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সম্পর্কিত পোস্ট