
আমরা অনেক সময় নিজের জীবনে ছোট-বড় অভিজ্ঞতা, সুখ-দুঃখ, ব্যক্তিগত অর্জন বা এলোমেলো ভাবনাগুলো সহজেই অন্যের সঙ্গে শেয়ার করে ফেলি। বন্ধুদের আড্ডায় এটা স্বাভাবিক মনে হলেও, সব জায়গায় এতটা খোলামেলা হওয়া সবসময় ঠিক নাও হতে পারে। কারণ সবাই আমাদের ব্যক্তিগত কথা শুনতে আগ্রহী নাও হতে পারে। বিশেষ করে পেশাগত পরিবেশে অতিরিক্ত কথা বলা বা নিজের ব্যক্তিগত বিষয় বেশি শেয়ার করা অনেক সময় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
অনেক সময় সরাসরি কেউ কিছু না বললেও, আড়ালে আপনার কথা নিয়ে আলোচনা বা সমালোচনা হতে পারে। তাই ‘শেয়ারিং’ আর ‘ওভারশেয়ারি ’-এর মধ্যে যে সূক্ষ্ম পার্থক্য আছে, তা বোঝা খুব জরুরি। নিজের জীবনের সবকিছু সবার সঙ্গে বলা সবসময় ভালো অভ্যাস নয়।
ওভারশেয়ারিং মানে কী
ওভারশেয়ারিং মানে হলো এমন কিছু ব্যক্তিগত তথ্য বা অনুভূতি অন্যকে বলা, যা আসলে বলার প্রয়োজন নেই বা পরিস্থিতির সঙ্গে মানানসই নয়। অনেক সময় আবেগ, উত্তেজনা বা অভ্যাসের কারণে আমরা বুঝে উঠতে পারি না কতটা বলা উচিত এবং কতটা না বলা ভালো। এই অভ্যাস আপাতদৃষ্টিতে ক্ষতিকর মনে না হলেও, ধীরে ধীরে এটি সামাজিক ও পেশাগত জীবনে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
মানুষ কথা শুনতে আগ্রহ হারায়
যদি কেউ লক্ষ্য করে, আপনি কথায় কথায় নিজের সব ব্যক্তিগত বিষয় বলে দিচ্ছেন, তাহলে সে ধীরে ধীরে আগ্রহ হারাতে পারে। শুরুতে কেউ মনোযোগ দিয়ে শুনলেও পরে বিরক্ত বোধ করতে পারে। অনেকেই সরাসরি কিছু না বললেও তাদের মুখভঙ্গি বা আচরণে সেটা বোঝা যায়।
নিজেকে অস্বস্তিতে ফেলা
ওভারশেয়ারিংয়ের কারণে অনেক সময় এমন তথ্যও বলে ফেলা হয়, যা পরে মনে হলে নিজেরই খারাপ লাগে। তখন মনে হতে পারে আপনি বেশি বলে ফেলেছেন বা নিজের ব্যক্তিগত বিষয় অতিরিক্ত প্রকাশ করেছেন। এতে আত্মবিশ্বাসও কিছুটা কমে যেতে পারে।
সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব
সব মানুষের সঙ্গে একই রকম খোলামেলা হওয়া ঠিক নয়। কিছু সম্পর্ক আছে যেখানে সীমারেখা রাখা জরুরি। অতিরিক্ত শেয়ার করলে অনেকেই আপনাকে ভুলভাবে বুঝতে পারে বা হালকা ভাবে নিতে পারে। এতে সম্পর্কেও দূরত্ব তৈরি হতে পারে।
আরও পড়ুন
বাবু খেয়েছো? জিজ্ঞাসা করাই প্রেমের নতুন ট্রেন্ড
যেভাবে ওভারশেয়ারিং এড়াবেন
এই অভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সবচেয়ে আগে দরকার নিজের কথা বলার ধরন সম্পর্কে সচেতন হওয়া। কথা বলার সময় একটু থেমে ভাবা উচিত-এই তথ্যটা বলা সত্যিই দরকার কি না।
একটি সহজ পদ্ধতি হলো ‘ট্রাফিক লাইট নিয়ম’
সবুজ আলো মানে আপনি কথা শুরু করতে পারেন এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক।হলুদ আলো মানে বুঝতে হবে এবার কথা সংক্ষেপ করা উচিত।লাল আলো মানে এখনই থেমে যাওয়া ভালো, কারণ আপনি অনেক বেশি বলে ফেলছেন।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিরতি নেওয়া। কথা বলার সময় দ্রুত না বলে মাঝেমধ্যে থেমে ভাবা ভালো। এতে অপ্রয়োজনীয় কথা বের হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
আরও পড়ুন
অহংকার বাড়ছে? এই ৫ উপায় বদলে দেবে আপনাকে
শোনার অভ্যাস বাড়ানো
কথোপকথনকে যদি টেনিস খেলার মতো ভাবা হয়, তাহলে বল দুই পাশে যাওয়া-আসা করে। শুধু নিজের কথা না বলে অন্যের কথাও মন দিয়ে শোনা জরুরি। এতে আলাপ ভারসাম্যপূর্ণ হয় এবং নিজের কথা বলার চাপও কমে যায়।
নিজের কথা বলা খারাপ নয়, কিন্তু সবকিছু সবার সঙ্গে শেয়ার করাও ঠিক নয়। সময়, জায়গা এবং মানুষ বুঝে কথা বলাই হলো বুদ্ধিমানের কাজ। এতে সম্পর্ক ভালো থাকে, আর নিজের ব্যক্তিত্বও আরও পরিপক্ব হয়ে ওঠে।
সূত্র: মিডিয়াম, সাইকোলজি টুডে, টুডে
এসএকেওয়াই












