
প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন বাংলাদেশি যুবককে। দীর্ঘ ১২ বছরের সংসারে জন্ম নিয়েছে এক সন্তানও। স্বামীর হাত ধরে নতুন জীবনের আশায় ভারত থেকে বাংলাদেশে এসেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহার জেলার দিনহাটা থানার বড় আতিয়াবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা বিউটি বিবি। কিন্তু অচেনা দেশে এসে স্বামীর প্রতারণার শিকার হয়ে এখন তিনি দিশেহারা।
স্বামী নিখোঁজ হওয়ার পর সড়ক দুর্ঘটনায় আহত সন্তানকে নিয়ে বর্তমানে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের শয্যায় দিন কাটছে তার।
ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় পাঁচ দিন আগে স্বামী আবু বক্করের সঙ্গে বিউটি বিবি ও তাদের শিশুপুত্র অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। এরপর তারা রাজধানী ঢাকায় একটি ভাড়া বাসায় ওঠেন। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পরই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান আবু বক্কর। দুই দিন পার হলেও স্বামীর কোনো খোঁজ না পেয়ে বিপাকে পড়েন বিউটি বিবি।
এদিকে ভাড়া পরিশোধ ও পরিচয় নিশ্চিত করতে না পারায় বাড়ির মালিক তাকে সন্তানসহ বাসা ছাড়তে বলেন। নিরুপায় হয়ে মানুষের সহায়তায় বাসে চড়ে তিনি লালমনিরহাটের বড়বাড়ী এলাকায় এসে পৌঁছান। কিন্তু সেখানেও দুর্ভাগ্য পিছু ছাড়েনি। বড়বাড়ী বাজারে এসে তার সন্তান একটি খেলনা কেনার আবদার করে। বাংলাদেশি মুদ্রা না থাকায় ছেলেকে খেলনা কিনে দিতে পারেননি বিউটি বিবি। এতে অভিমান করে শিশুটি হঠাৎ মহাসড়কের দিকে দৌড়ে গেলে একটি দ্রুতগামী মোটরসাইকেল তাকে ধাক্কা দেয়।
দুর্ঘটনায় শিশুটি মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে সড়কে ছিটকে পড়ে। পরে স্থানীয় এক অটোরিকশাচালকের মানবিক সহায়তায় বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে মা-ছেলেকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে হাসপাতালের তিনতলায় শিশুটির চিকিৎসা চলছে।
অচেনা দেশে স্বজনহীন অবস্থায় কখনও বাংলায়, কখনও হিন্দিতে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের দুর্দশার কথা জানান বিউটি বিবি। তিনি জানান, প্রায় ১২ বছর আগে ভারতে একটি ইটভাটায় কাজ করতে যাওয়া বাংলাদেশি যুবক আবু বক্করের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরিচয় থেকে প্রেম, পরে বিয়ে। তাদের সংসারে জন্ম নেয় এক ছেলে। ভিনদেশি ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক হওয়ায় বিউটি বিবির বাবা-মা এই বিয়ে মেনে নেননি।
তিনি আরও জানান, সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের পর পরিস্থিতি ঘোলাটে হলে আবু বক্কর আর সেখানে থাকতে পারছিলেন না। তাই স্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন যে, বাংলাদেশে তার পরিবার পাওয়া গেছে এবং তিনি দেশে ফিরতে চান। তবে কোন সীমান্ত দিয়ে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না ওই নারী। তার কাছে ভারতের আধার কার্ড ছাড়া আর কোনো বৈধ পরিচয়পত্র বা কাগজপত্র নেই।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রাজীব কুমার সাহা বলেন, দুপুর ৩টার দিকে ওই নারী তার ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন। শিশুটির মাথায় আঘাত রয়েছে। আমরা তাকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে মেডিকেলের তিনতলায় ভর্তি রেখেছি। পরে জানতে পারি তারা ভারতীয় নাগরিক। প্রথমদিকে শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও, বর্তমানে সে অনেকটাই সুস্থ।
লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ ইসলাম বলেন, একজন ভারতীয় নারী তার সন্তানকে নিয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। আমরা সার্বিক বিষয়ে নজর রাখছি। ওই নারী ভারতের আধার কার্ড ছাড়া আর কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মহসীন ইসলাম শাওন/কেএইচকে/এএসএম












