
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (MoU) একটি ঐতিহাসিক মোড় পরিবর্তনের ঘটনা। তেহরানের ওপর নিজেদের ইচ্ছা চাপিয়ে দিতে ওয়াশিংটনের ব্যর্থতা মার্কিন সাম্রাজ্যের পতনের সূচনা বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিক টাকার কার্লসন।
বুধবার (১৭ জুন) স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে কার্লসন বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে ইরানকে একটি আঞ্চলিক শক্তি এবং সামরিক চাপের মাধ্যমে দমন করা সম্ভব নয় বলে স্বীকৃতি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
তিনি বলেন, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে যে ইরান একটি গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। আর এটি সবকিছু বদলে দেয়। যেমন ১৯৫৬ সালের সুয়েজ সংকট ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অবসানের সূচনা করেছিল, তেমনি এই ঘটনাও একটি যুগান্তকারী পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে।
কার্লসন উল্লেখ করেন যে, সুয়েজ সংকট ব্রিটেনের পতন ঘটায়নি বরং তার আগেই ঘটে যাওয়া শক্তি হ্রাসকে সবার সামনে উন্মোচিত করেছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ বা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অবক্ষয় শুরু হয়েছিল, কিন্তু সুয়েজ সংকটের সময় স্পষ্ট হয়ে যায় যে ব্রিটেন আর নিজের ইচ্ছামতো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম নয়।
তিনি বলেন, সুয়েজ সংকটে ব্রিটেন পরিষ্কারভাবে দেখিয়ে দিয়েছিল যে তারা যা-ই বলুক না কেন, বাস্তবে ফলাফল নিজেদের মতো করে নির্ধারণ করার ক্ষমতা তাদের আর নেই। সেই ক্ষমতা তখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে চলে গিয়েছিল।
এই ঐতিহাসিক উদাহরণ টেনে কার্লসন দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে বর্তমান সমঝোতাও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একই ধরনের একটি মুহূর্ত হতে পারে। তার মতে, পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘদিন নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর আধিপত্য বজায় রাখলেও তেহরানের সঙ্গে সংঘাতের ফলাফল দেখিয়েছে, সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব সবসময় কৌশলগত সাফল্য নিশ্চিত করতে পারে না।
তিনি বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড়, সবচেয়ে উন্নত কিংবা সবচেয়ে বেশি অর্থায়নপ্রাপ্ত সামরিক শক্তি থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের ৩৪তম বৃহত্তম অর্থনীতির ওপর নিজের ইচ্ছা চাপিয়ে দিতে পারেনি।
এদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার (১৭ জুন) ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছেন। এই সমঝোতা স্বাক্ষর করার মাধ্যমে সব ফ্রন্টে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, ধাপে ধাপে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের ওপর নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরুদ্ধারের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
খসড়া চুক্তিতে আরও রয়েছে ইরানের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা, তেল রপ্তানিতে ছাড়, জব্দকৃত ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা।
তবে, এই সমঝোতা ওয়াশিংটনে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। অনেক মার্কিন আইনপ্রণেতার অভিযোগ, কয়েক মাসের সামরিক উত্তেজনা ও বিপুল ব্যয়ের পরও চুক্তিটি ইরানের জন্য উল্লেখযোগ্য সুবিধা এনে দিলেও যুক্তরাষ্ট্র কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করতে পারেনি।
সূত্র: প্রেস টিভি
কেএম












