
অনিশ্চয়তার দোলাচালে দুলছিল ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ। ‘অনিশ্চয়তার দোলাচাল’ বললে বোধকরি কমই বলা হয়। বলা যায়, এ বছরের মতো ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের সবচেয়ে জমজমাট, আকর্ষণীয় ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসরটি না হওয়ার সম্ভাবনাই তৈরি হয়েছিল।
কারণ এক ও অভিন্ন- বিসিবি নির্বাচনে অনিয়ম, অস্বচ্ছতা এবং সরকারের অযাচিত হস্তক্ষেপের অভিযোগে ঢাকার ক্লাবগুলো কিছুতেই আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বিসিবির অধীনে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ খেলতে রাজি ছিল না। বার কয়েক চেষ্টা করেও আমিনুল ইসলাম বুলবুল অ্যান্ড কোং ঢাকা লিগ মাঠে গড়াতে পারেননি। ক্লাবগুলো কিছুতেই ওই বোর্ডের অধীনে লিগ খেলতে চায়নি। তাই বাধ্য হয়েই গত বোর্ডের পক্ষে প্রিমিয়ার লিগ আয়োজন করা সম্ভব হয়নি।
বলার অপেক্ষা রাখে না যে, ক্লাবগুলো আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বিসিবির অধীনে প্রিমিয়ার লিগ খেলতে অনাগ্রহী ছিল, তারা এখন আগ্রহী হয়ে উঠেছে। কারণ খুবই পরিষ্কার- আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বোর্ড ভেঙে গেছে। ফেডারেশনগুলোর অভিভাবক জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ তাদের গঠনতন্ত্রের ২১ ধারা মোতাবেক বোর্ড ভেঙে দিয়ে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেছে। এখন তামিম ইকবালের নেতৃত্বে বোর্ড আবার কাজ শুরু করার পর থেকেই ক্লাবগুলোও খেলতে আগ্রহী হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবারের মতো প্রিমিয়ার লিগ সিঙ্গেল লিগ পদ্ধতিতে আয়োজনের চিন্তাভাবনা চলছে। আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না এলেও ভেতরে ভেতরে দলবদলের নিদর্শন এবং প্রিমিয়ার লিগ শুরুর সম্ভাব্য দিনক্ষণও নাকি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
জানা গেছে, আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহেই প্রিমিয়ার লিগ শুরুর জোর চিন্তাভাবনা চলছে। তার আগে এপ্রিল মাসের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যেই দলবদল অনুষ্ঠানের কথাও ভাবা হচ্ছে।
তবে প্রিমিয়ার লিগ শুরুর আগে একটি বিষয় নির্ধারণ করা বাকি। তা হলো- এখন পর্যন্ত ১১ সদস্যের বিসিবিতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্ট্যান্ডিং কমিটি গঠন করা হলেও, যে স্ট্যান্ডিং কমিটি প্রিমিয়ার লিগসহ ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের আসরগুলো আয়োজন করে, সেই সিসিডিএম-এর পূর্ণাঙ্গ কমিটি এখনো গঠিত হয়নি।
এখন প্রশ্ন- কে হবেন সিসিডিএম-এর নতুন চেয়ারম্যান? সদস্য সচিবই বা করা হবে কাকে?
জানা গেছে, নীরবে-নিভৃতে ফাহিম সিনহাকে সিসিডিএম চেয়ারম্যান করার কথা ভাবা হচ্ছে। যদিও ফাহিম সিনহার কাঁধে এরই মধ্যে বিপিএল এবং গেম ডেভেলপমেন্ট প্রধানের গুরু দায়িত্ব রয়েছে। পাশাপাশি ঢাকার ক্লাব ক্রিকেট পরিচালনার দায়িত্বও নাকি তার কাঁধেই বর্তাবে এবং ফাহিম সিনহার সদস্য সচিব হিসেবে তরুণ, নিবেদিতপ্রাণ ক্রিকেট সংগঠক সাব্বির আহমেদ রুবেলের নামও শোনা যাচ্ছে ক্রিকেটপাড়ায়।
সিসিডিএম কমিটি গঠনের পরপরই নতুন কমিটির প্রথম সভা হবে। ধারণা করা যাচ্ছে, সেই সভাতেই প্রিমিয়ার লিগ শুরুর সম্ভাব্য দিনক্ষণ চূড়ান্ত করার পাশাপাশি দলবদলের একটি সম্ভাব্য সূচিও নির্ধারণ করা হবে।
এমনিতেই শোনা যাচ্ছে, আগামী ১৮ ও ১৯ এপ্রিল এবারের প্রিমিয়ার লিগের আনুষ্ঠানিক দলবদল অনুষ্ঠিত হতে পারে। আর ৫ মে থেকে প্রিমিয়ার লিগ শুরুর কথাও ভাবা হচ্ছে।
আগেই বলা হয়েছে, যেহেতু নির্ধারিত সময়ের বেশ পরে লিগ শুরু হতে যাচ্ছে, তাই এবার সিঙ্গেল লিগ করার চিন্তাই চলছে। সুপার লিগ আয়োজনের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
যেহেতু জুন মাস থেকেই বর্ষাকাল শুরু হয়ে যাবে এবং বর্ষাকাল মানেই মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাবে প্রবল বৃষ্টি, তাই একসঙ্গে শুরু থেকে প্রতিদিন একটি করে পর্ব আয়োজনের চিন্তাভাবনাও চলছে।
ঢাকা শহর ও তার আশপাশে বিকেএসপি-সহ মোট ৬টি মাঠে খেলা চালানোর কথা ভাবা হচ্ছে। যেহেতু প্রিমিয়ার লিগে দলের সংখ্যা ১২টি, তাই প্রতিদিন ৬টি মাঠে প্রিমিয়ার লিগ আয়োজনের কথাও ভাবা হচ্ছে। এতে করে একদিনেই এক রাউন্ড শেষ হয়ে যাবে। তারপর ২ দিন বিরতি দিয়ে পরের পর্ব হলেও ১ মাসের মধ্যেই সিঙ্গেল লিগ শেষ করা সম্ভব হবে।
এদিকে প্রধান ভেন্যু শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে আগামী ১৪ মে পর্যন্ত প্রিমিয়ার লিগ হবে না বলে জানা গেছে। ওই সময়ের মধ্যে শেরে বাংলায় বিসিএলের ২ পর্বের খেলা হবে। তাই ১৪ মে’র আগে ‘হোম অব ক্রিকেট’- এ প্রিমিয়ার লিগ হবে না।
তখন বিকেএসপির ৩ ও ৪ নম্বর মাঠ, পূর্বাচলের একটি মাঠ, খালেদ মাহমুদ সুজনের একাডেমি মাঠ, বসুন্ধরা ক্রিকেট মাঠ, মোহাম্মদপুরের সিলিকন মাঠ এবং ইউল্যাব মাঠকে সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে ভাবা হচ্ছে। জানা গেছে, প্রধান ভেন্যু শেরে বাংলায় খেলা চালুর আগে বাকি ৭টি মাঠের মধ্য থেকে ৬টি মাঠ ভালোভাবে দেখে এবং সেগুলোর আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা প্রিমিয়ার লিগ পরিচালনার উপযোগী কিনা তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যাচাই-বাছাইয়ের পরই চূড়ান্ত করা হবে।
এআরবি/আইএইচএস/







