ভাত আমাদের প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় অপরিহার্য অংশ। দিনের প্রতিটি বেলায় ভাত না হলে যেন খাবারই সম্পূর্ণ হয় না। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে খাদ্যাভ্যাসেও এসেছে পরিবর্তন। ভেজাল খাবার, অতিরিক্ত পালিশ করা চাল এবং কেমিক্যাল-মিশ্রিত খাদ্যের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বেড়েছে। এর ফলেই ধীরে ধীরে মানুষ প্রাকৃতিক ও পুষ্টিকর খাবারের দিকে ঝুঁকছেন।
তাই ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ব্ল্যাক রাইস বা কালো চাল। শরীরকে ভেতর থেকে সুস্থ রাখতে এখন অনেকেই সাদা ঝরঝরে ভাতের বদলে ব্ল্যাক রাইসকে বেছে নিচ্ছেন।
আসুন জেনে নেওয়া যাক কালো চাল খেলে কী কী উপকার পাবেন-
কালো রঙেই লুকিয়ে পুষ্টির ভাণ্ডারব্ল্যাক রাইস দেখতে গাঢ় কালো বা বেগুনি আভাযুক্ত। এই বিশেষ রঙের পেছনে রয়েছে অ্যান্থোসায়ানিন নামের শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা ব্লুবেরি বা কালো আঙুরেও পাওয়া যায়। এই উপাদান শরীরকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে এবং কোষের ক্ষয় কমায়। ফলে অকাল বার্ধক্য প্রতিরোধেও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখে।
হৃদযন্ত্রের সুরক্ষায় কার্যকরব্ল্যাক রাইসে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড ও ফাইটোকেমিক্যাল শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল (এলডিএল)এবং ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে সাহায্য করে। এর ফলে ধমনিতে চর্বি জমার আশঙ্কা কমে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস পায়। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় এই চাল অন্তর্ভুক্ত করলে হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে সহায়ক হতে পারে।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করেসাদা চালের তুলনায় ব্ল্যাক রাইসের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স অনেক কম। তাই এটি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করে বেড়ে যায় না। ইনসুলিনের ওঠানামাও তুলনামূলক কম হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিমিত পরিমাণে ব্ল্যাক রাইস টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী খাদ্য হতে পারে।
হজমশক্তি ও ডিটক্সে সহায়কব্ল্যাক রাইসে ফাইবারের পরিমাণ বেশ বেশি, যা হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়া এতে থাকা ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট লিভার থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বের করে শরীরকে ভেতর থেকে পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে। ফলে এটি একটি প্রাকৃতিক ডিটক্স খাদ্য হিসেবেও পরিচিত।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করেপ্রোটিন ও ফাইবারে সমৃদ্ধ হওয়ায় অল্প পরিমাণ ব্ল্যাক রাইস খেলেই দীর্ঘসময় পেট ভরা থাকে। এতে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যারা ওজন কমাতে চান, তাদের জন্য এটি একটি ভালো হতে পারে।
সাদা, ব্রাউন নাকি ব্ল্যাক যেটা খাবেনসাদা চাল মূলত রিফাইনড বা পালিশ করা হওয়ায় এর অধিকাংশ পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায়। অন্যদিকে, ব্রাউন ও ব্ল্যাক রাইস হলো হোল গ্রেইন, যেখানে ফাইবার, আয়রন ও প্রোটিন অটুট থাকে। তাই পুষ্টিগুণের দিক থেকে ব্ল্যাক রাইস অনেকটাই এগিয়ে। তবে বাজারে ভেজালের ঝুঁকিও রয়েছে। অনেক সময় সাদা চাল রং মিশিয়ে ব্রাউন রাইস হিসেবে বিক্রি করা হয়, তাই কেনার সময় সতর্ক থাকা জরুরি।
স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য খাদ্যাভ্যাসে ছোট পরিবর্তনই বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সাদা ভাতের পরিবর্তে ব্ল্যাক রাইস বেছে নেওয়া এমনই একটি সচেতন সিদ্ধান্ত, যা শরীরকে ভেতর থেকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিনের খাবারে পুষ্টির ভারসাম্য রাখতে চাইলে ব্ল্যাক রাইস হতে পারে আপনার নতুন সঙ্গী।
সূত্র: হেলথ লাইন, টাইমস অব ইন্ডিয়া
আরও পড়ুন:রান্না ছোলার বদলে ইফতারে থাকুক অঙ্কুরিত কাঁচা ছোলা মাখানো ফুড পয়জনিং নাকি ডায়রিয়া? লক্ষণ মিললেও দুটো এক নয়
এসএকেওয়াই
Editor: TECHNO NEWS
Email :info@technoviable.com
Mobile : +8801914219906
৬২২, ফ্ল্যাট নং ১৩/বি, এভারগ্রীন মিজান স্কয়ার, বেগম রোকেয়া সরণি, ঢাকা-১২১৬, বাংলাদেশ।
Copyright TechnoNews 2025 | Developed By Technoviable