সাড়ে ১১টার পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেন কমলাপুর থেকে ছেড়েছে ভোর ৫টায়। আর দিনাজপুরে এসে পৌঁছেছে বিকাল ৫টা ৩৭ মিনিটে। সাড়ে ৬ ঘণ্টা বিলম্বে চলা ট্রেনে ঢাকা থেকে দিনাজপুরে পৌঁছাতে যাত্রীদের সময় লেগেছে ১৯ ঘণ্টা।
দুর্ভোগ এখানে শেষ নয়, নিরাপত্তা, যানজট সব এড়িয়ে অনেক যাত্রী স্টেশনে পৌঁছায় সন্ধ্যায়। সেই হিসাবে যাত্রীদের অনেকের সময় লেগেছে ২৩ থেকে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত। এ দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন যাত্রীরা নিজেরা।
বগুড়ার সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন দুর্ঘটনার কারণে উত্তরাঞ্চলে ঈদযাত্রার ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ঘটে। বাতিল হয় দুটি ট্রেনের শিডিউল। তবে কমলাপুর স্টেশন থেকে সাড়ে ১১টার পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেন ছেড়েছে ৫টার সময়। ট্রেনের ভিতরে, বাইরে, ছাদে—সব জায়গায় ছিল যাত্রীতে ঠাসা। বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেন থামলেও সিটে বসে যারা এসেছেন, তারা সিট থেকে উঠতেও পারেননি। যারা দাঁড়িয়ে ছিলেন, তারা বসতে পারেননি। যারা ছাদে ছিলেন, তারা ছাদ থেকে নামতে পারেননি। প্রস্রাব, পায়খানা ও খাওয়া-দাওয়ার যে দুর্ভোগ, তা বর্ণনা করার মতো নয়। ট্রেনটি দিনাজপুর স্টেশন অতিক্রম করেছে বিকেল ৫টা ৩৭ মিনিটে। এতে করে সাড়ে ৬ ঘণ্টা বিলম্বে ছাড়া ট্রেনটি যেখানে ১০ ঘণ্টার মধ্যে দিনাজপুর স্টেশনে পৌঁছানোর কথা, সেখানে সময় লেগেছে সাড়ে ১২ ঘণ্টা।
পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনে দিনাজপুরে পরিবার নিয়ে আসা কাহারোল উপজেলার বাসিন্দা ইব্রাহীম খলিল বলেন, বুধবার সন্ধ্যায় প্রথমে বিমানবন্দর স্টেশনে গিয়েছিলেন। রাতে ট্রেনের বিলম্ব হওয়ায় সেখান থেকে তিনি কমলাপুর স্টেশনে যান। ট্রেন ছাড়ে ভোর ৫টায়। ট্রেনে ওঠার পর আর নড়াচড়া করতে পারেননি। স্টেশনে নেমে তিনি জানান ঈদযাত্রার বিড়ম্বনার কথা। তিনি বলেন, আসতে হয় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, আবার যেতে হয় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। আসলেও বিপদ, না আসলেও বিপদ। কারণ পরিবারের লোকজন তাকিয়ে থাকে কখন আসব।
মাসুদ রানা বলেন, আমি বিমানবন্দর স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠেছি। বিমানবন্দর স্টেশনে ট্রেন আসার কথা ছিল রাত ১১টায়, সেখানে ট্রেন এসেছে ভোর ৫টায়। দিনাজপুরে এসে পৌঁছালাম সন্ধ্যা ৫টা ৩৭ মিনিটে। ট্রেনে খুবই যাত্রীচাপ ছিল, এ ভিড়ে মহিলা ও শিশুদের খুবই কষ্ট হয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে সোচ্চার হওয়া দরকার।
কাহারোলের ইব্রাহিম খলিল জানান, আমরা ইফতারের সময় বের হয়েছি। বিমানবন্দর স্টেশনে আমাদের রাত ১১টায় ট্রেনে ওঠার কথা। সেখানে সারা রাত বসে থেকে ট্রেনে উঠেছি ভোর ৫টায়। আমার সঙ্গে আমার স্ত্রী, বাচ্চা, শ্যালক এবং শ্যালকের বউ আছেন। ট্রেনের সবাই ক্লান্ত। ট্রেনটা যখন কোথাও থামে, তখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা থেমে থাকে। আর খাওয়া-দাওয়ার তো কোনো ব্যবস্থা নেই। ঈদের ছুটিতে বাড়িতে আসতেও ঝামেলা, যেতেও ঝামেলা।
দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশন সুপার এ বি এম জিয়াউর রহমান বলেন, একটি ট্রেনের শিডিউল বাতিল হয়েছে। ট্রেন বিলম্বে চলছে। ভোর ৫টার সময় ছেড়ে আসা পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনটি বিকেল ৫টা ৩৭ মিনিটে প্রবেশ করে। পরে পঞ্চগড় স্টেশনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ট্রেনটি কমলাপুর স্টেশন থেকে রাত সাড়ে ১১টার সময় ছাড়ার কথা থাকলেও ভোর ৫টায় ছাড়া হয়।
এমদাদুল হক মিলন/আরএইচ/এএসএম
Editor: TECHNO NEWS
Email :info@technoviable.com
Mobile : +8801914219906
৬২২, ফ্ল্যাট নং ১৩/বি, এভারগ্রীন মিজান স্কয়ার, বেগম রোকেয়া সরণি, ঢাকা-১২১৬, বাংলাদেশ।
Copyright TechnoNews 2025 | Developed By Technoviable