ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে করা এক সাংবাদিকের প্রশ্নের পর দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, মানবাধিকার এবং সরকারের প্রতি আস্থার প্রশ্নে ভারতীয় কর্মকর্তাদের কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়।
ঘটনাটি ঘটে নরওয়ে সফরে থাকা মোদীর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে। সেখানে তিনি নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস ঘরের সঙ্গে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান শেষে দুই নেতা মঞ্চ ত্যাগ করার সময় নরওয়েজিয়ান সাংবাদিক হেলে লিং মোদীকে উদ্দেশ করে প্রশ্ন ছুড়ে দেন।
ওই সাংবাদিক জানতে চান, প্রধানমন্ত্রী মোদী, বিশ্বের সবচেয়ে স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের সামনে আপনি প্রশ্ন নেন না কেন?
তবে মোদী থেমে কোনো জবাব না দিয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।
পরে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পশ্চিম) সিবি গর্জের সংবাদ ব্রিফিংয়ে একই সাংবাদিক আবারও মানবাধিকার ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
তিনি জানতে চান, আমরা যখন ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছি, তখন আমরা কেন আপনাদের বিশ্বাস করবো? পাশাপাশি তিনি ভারতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ বন্ধে সরকারের অবস্থান এবং মোদী ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হবেন কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন করেন।
জবাবে সিবি জর্জ ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামো ও আন্তর্জাতিক ভূমিকার পক্ষে জোরালো সাফাই দেন।
তিনি বলেন, ভারতকে কেন বিশ্বাস করা উচিত, তার পেছনের প্রেক্ষাপট আমি তুলে ধরছি। ভারত একটি সভ্যতাভিত্তিক রাষ্ট্র, যার বিশ্বকে দেওয়ার মতো বিশেষ কিছু রয়েছে।
তিনি কোভিড-১৯ মহামারির সময় ভারতের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, ভারত ১০০টিরও বেশি দেশে টিকা এবং প্রায় ১৫০টি দেশে ওষুধ সরবরাহ করেছিল।
ব্রিফিং চলাকালে সাংবাদিক বারবার ফলোআপ প্রশ্ন করতে গেলে সিবি জর্জ কিছুটা বিরক্ত প্রতিক্রিয়া জানান।
তিনি বলেন, দয়া করে আমাকে উত্তর দিতে দিন। প্রশ্ন করেছেন, কিন্তু কীভাবে উত্তর দেবো, সেটাও বলে দিতে পারেন না।
তিনি আরও দাবি করেন, বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় এক-ষষ্ঠাংশ ভারতের হলেও বিশ্ব সমস্যার এক-ষষ্ঠাংশের জন্য ভারত দায়ী নয়।
ভারতের সংবিধান নাগরিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নারীদের ভোটাধিকারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ১৯৪৭ সালেই ভারত নারীদের ভোটাধিকার দিয়েছে। স্বাধীনতার প্রথম দিন থেকেই আমরা সমান অধিকারে বিশ্বাস করি।
পরে সাংবাদিক হেলে লিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, তিনি এবং তার সহকর্মী মানবাধিকার ইস্যুতে নির্দিষ্ট উত্তর পাওয়ার চেষ্টা করলেও তা পাননি।
তিনি লিখেন, আমরা জানতে চেয়েছিলাম কেন মানবাধিকার পরিস্থিতির পরও ভারতকে বিশ্বাস করা উচিত। কিন্তু নির্দিষ্ট উত্তর পাইনি। প্রতিনিধিরা কোভিডে ভারতের ভূমিকা এবং যোগব্যায়াম নিয়ে কথা বলেছেন।
সূত্র: দ্য হিন্দু
এমএসএম
Editor: TECHNO NEWS
Email :info@technoviable.com
Mobile : +8801914219906
৬২২, ফ্ল্যাট নং ১৩/বি, এভারগ্রীন মিজান স্কয়ার, বেগম রোকেয়া সরণি, ঢাকা-১২১৬, বাংলাদেশ।
Copyright TechnoNews 2025 | Developed By Technoviable