ঘরের দরজা বন্ধ করলেই কি আমরা নিরাপদ? অনেকেই মনে করেন, বাইরে না গেলেই সংক্রমণের ঝুঁকি কমে যায়। কিন্তু বাস্তবতা হলো সংক্রমণ শুধু বাইরে নয়, ঘরের ভেতরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে খুব সহজেই। বিশেষ করে হামের মতো অত্যন্ত সংক্রামক রোগের সময়, একটি অসাবধানতাই পুরো পরিবারের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তাই সংক্রমণের এই সময়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো ঘরকে যতটা সম্ভব পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখা। তবে এর মানে এই নয় যে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা কষ্ট করে ঘর পরিষ্কার করতে হবে। বরং কিছু সহজ, নিয়মিত অভ্যাসই আপনার ঘরকে রাখতে পারে নিরাপদ। চলুন জেনে নেওয়া যাক, কীভাবে সহজ উপায়ে ঘর জীবাণুমুক্ত রাখা যায়-
কেন ঘর জীবাণুমুক্ত রাখা জরুরি?
হামসহ অনেক ভাইরাস বাতাসে ভাসতে পারে এবং বিভিন্ন পৃষ্ঠে কিছু সময় পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। যেমন-দরজার হাতল, টেবিল, মোবাইল, খেলনা এসব জায়গায় জীবাণু জমে থাকতে পারে। শিশুরা এসব স্পর্শ করার পর মুখে হাত দিলে সংক্রমণ সহজেই শরীরে প্রবেশ করতে পারে। তাই নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা শুধু অভ্যাস নয়, বরং একটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা।
ঘরের কোন জায়গাগুলো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ?
প্রতিদিনের ব্যবহার করা কিছু জিনিসই হয়ে উঠতে পারে জীবাণুর আস্তানা। যেমন- দরজার হাতল ও সুইচ, টেবিল, চেয়ার, পড়ার ডেস্ক, মোবাইল ফোন, রিমোট কন্ট্রোল, শিশুর খেলনা, পানির বোতল ও টিফিন বক্স, বাথরুমের কল ও ফ্লাশ। এই জায়গাগুলো দিনে অন্তত একবার পরিষ্কার করা উচিত।
প্রতিদিনের সহজ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার রুটিন
নিয়মিত হাত ধোয়া নিশ্চিত করুন: ঘরের সবাইকে সাবান দিয়ে ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে বাইরে থেকে আসার পর, খাবার খাওয়ার আগে ও টয়লেট ব্যবহারের পর।
জীবাণুনাশক ব্যবহার করুন: সাধারণ ব্লিচ (পানি মিশিয়ে) বা জীবাণুনাশক স্প্রে ব্যবহার করতে পারেন। দরজার হাতল, টেবিল, মোবাইল নিয়মিত মুছে ফেলুনশিশুর খেলনা সপ্তাহে অন্তত ২-৩ বার পরিষ্কার করুন।
বাতাস চলাচল নিশ্চিত করুন: ঘরের জানালা খুলে দিন, যেন বাতাস চলাচল করতে পারে। বন্ধ ঘরে ভাইরাস দীর্ঘ সময় থাকতে পারে, তাই প্রাকৃতিক বাতাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
কাপড় ও বিছানাপত্র পরিষ্কার রাখুন: প্রতিদিন ব্যবহৃত কাপড় আলাদা করে ধুতে হবে। বালিশের কভার, চাদর নিয়মিত পরিবর্তন করুন। অসুস্থ ব্যক্তির কাপড় আলাদা রাখুন।
জুতা বাইরে রাখার অভ্যাস করুন: বাইরের ধুলো ও জীবাণু যাতে ঘরে না ঢোকে, সে জন্য দরজার বাইরে জুতা রাখার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
আরও পড়ুন:
হামের ঝুঁকিতে স্কুলপড়ুয়া শিশু, অভিভাবকদের করণীয়
ফুলদানিতে ফুল তাজা রাখার কৌশল
শিশুর জিনিসপত্র পরিষ্কারে বাড়তি সতর্কতা
শিশুরা স্বাভাবিকভাবেই বেশি স্পর্শ করে এবং মুখে হাত দেয়। তাই তাদের জিনিসপত্রে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি। যেমন- খেলনা প্রতিদিন বা অন্তত কয়েকদিন পরপর ধুয়ে ফেলুন, স্কুল ব্যাগ ও পানির বোতল পরিষ্কার রাখুন, শিশুর ব্যবহৃত মোবাইল/ট্যাব মুছে দিন।
অসুস্থ কেউ থাকলে বাড়তি করণীয়
যদি পরিবারের কেউ ইতিমধ্যে আক্রান্ত হয়ে থাকেন, তাহলে কিছু বাড়তি সতর্কতা জরুরি-
আলাদা ঘরে রাখার চেষ্টা করুন
তার ব্যবহৃত জিনিস আলাদা রাখুন
যতটা সম্ভব কম সংস্পর্শে থাকুন
পরিচর্যার সময় মাস্ক ব্যবহার করুন
কী করবেন না?
অতিরিক্ত কেমিক্যাল ব্যবহার করবেন না, এতে শ্বাসকষ্ট বা ত্বকের সমস্যা হতে পারে
একই কাপড় দিয়ে সব জায়গা পরিষ্কার করবেন না
ভেজা জায়গা ফেলে রাখবেন না, এতে জীবাণু আরও বাড়তে পারে
ছোট ছোট অভ্যাস, বড় সুরক্ষা
ঘর জীবাণুমুক্ত রাখা মানে শুধু ঝাড়ু দেওয়া বা মুছা নয়; এটি একটি সচেতন জীবনযাত্রার অংশ। প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাস যেমন হাত ধোয়া, পরিষ্কার রাখা, বাতাস চলাচল নিশ্চিত করা এসবই আপনার পরিবারকে রাখতে পারে নিরাপদ। বিশেষ করে শিশুদের জন্য একটি পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। কারণ একটি পরিচ্ছন্ন ঘরই হতে পারে সংক্রমণ প্রতিরোধের প্রথম ধাপ।
জেএস/
Editor: TECHNO NEWS
Email :info@technoviable.com
Mobile : +8801914219906
৬২২, ফ্ল্যাট নং ১৩/বি, এভারগ্রীন মিজান স্কয়ার, বেগম রোকেয়া সরণি, ঢাকা-১২১৬, বাংলাদেশ।
Copyright TechnoNews 2025 | Developed By Technoviable