ঘরোয়া ফুটবলে সবচেয়ে আলোচিত প্রতিদ্বন্দ্বিতার এক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলো। বসুন্ধরা কিংস শুক্রবার আবাহনীকে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই বাংলাদেশ ফুটবল লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এটি কিংসের ষষ্ঠ শিরোপা, যা তাদেরকে আবাহনীর সমান সর্বোচ্চ চ্যাম্পিয়নশিপের কাতারে নিয়ে এসেছে।
২০০৭ সালে পেশাদার লিগ যাত্রা শুরুর পর দীর্ঘদিন আবাহনীই ছিল প্রধান শক্তি। আকাশি-নীলরা ছয়বার চ্যাম্পিয়ন হয়ে লিগের সফলতম দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছিল।
২০১৮ সালে শীর্ষ লিগে নাম লেখানোর পর বসুন্ধরা কিংস আবাহনীর সেই আধিপত্যে চিড় ধরিয়ে দেয়। অভিষেক মৌসুম থেকেই টানা পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়ে তারা ইতিহাস গড়ে। দেশীয় ফুটবলে এমন ধারাবাহিক আধিপত্য খুব কমই দেখা গেছে।
তবে গত মৌসুমে মোহামেডান ট্রফি ছিনিয়ে নেয় কিংসের কাছ থেকে। যার ফলে ঘরোয়া ফুটবলে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্ম দেয়। সাদা-কালো শিবিরের প্রথম সাফল্য মনে করিয়ে দিয়েছিল যে, দেশের ফুটবলে কারোরই একচ্ছত্র আধিপত্য সম্ভব নয়। এক মৌসুম আগে শিরোপা হারানো কিংস এবার দুর্দান্তভাবে প্রত্যাবর্তন করেছে।
কুমিল্লায় আবাহনীর বিপক্ষে জয়ের মাধ্যমে কিংস শুধু চ্যাম্পিয়নই হয়নি, ঐতিহ্যবাহী প্রতিপক্ষকে ছুঁয়ে ফেলে নতুন মাইলফলকও স্পর্শ করেছে।
কিংসের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে সুপরিকল্পিত দল গঠন, বিদেশি খেলোয়াড়দের সঠিক নির্বাচন এবং স্থানীয় তরুণদের যথাযথ সুযোগ প্রদান। কোচ ও ম্যানেজমেন্টের ধারাবাহিকতাও এই সাফল্যের অন্যতম চালিকাশক্তি।
অন্যদিকে আবাহনী গত মৌসুমে শিরোপার কাছাকাছি গিয়ে ব্যর্থ হয়ে এবার মরণ কামড় দিয়েছিল শ্রেষ্ঠত্ব ফিরে পেতে। শিরোপার লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত টিকেও ছিল। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি দেশেনর অন্যতম ঐতিহ্যবাহী দলটি।
কিংসের সামনে এখন নতুন চ্যালেঞ্জ—ষষ্ঠ শিরোপা দিয়ে তারা আবাহনীর রেকর্ড স্পর্শের পর তাদেরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার। তাদের নতুন লক্ষ্য সপ্তম শিরোপা এনে এককভাবে শীর্ষে ওঠার। সেই লক্ষ্য নিয়েই আগামী মৌসুমে নামবে তারা।
ফুটবলপ্রেমীরা অপেক্ষায় থাকবে, কে ভাঙবে এই নতুন সমতা? কিংস না আবাহনী? নাকি মোহামেডান আবার চমক দেখাবে? এই ত্রিমুখী লড়াই বাংলাদেশ ফুটবল লিগের নতুন অধ্যায় আরো জমে উঠবে বলেই আশা করছেন সবাই।
আরআই/এমএমআর
Editor: TECHNO NEWS
Email :info@technoviable.com
Mobile : +8801914219906
৬২২, ফ্ল্যাট নং ১৩/বি, এভারগ্রীন মিজান স্কয়ার, বেগম রোকেয়া সরণি, ঢাকা-১২১৬, বাংলাদেশ।
Copyright TechnoNews 2025 | Developed By Technoviable