দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশের বিশ্বকাপে খেলার কখনো আদৌ সম্ভাবনা আছে কি না সন্দেহ। পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার এক চতুর্থাংশেরও বেশি মানুষের বসবাস এই অঞ্চলে। প্রায় ২১০ কোটিরও বেশি। এত বিশাল পরিমাণ জনঘনত্বের অঞ্চলে ফুটবল যতটা জনপ্রিয়, খেলার মাঠে ততটা এগিয়ে নেই। যে কারণে, এশিয়ান অঞ্চলের বাছাই পর্বে বিভিন্ন গ্রুপে তলানীর দেশ থাকে ভারতের মত দেশও, যারা ফিফা র্যাংকিংয়ে সার্ক অঞ্চলে সবচেয়ে এগিয়ে থাকে।
সে তুলনায়, পাকিস্তান অনেক পিছিয়ে। ফিফা র্যাংকিংয়ে তাদের অবস্থান ১৯৮তম। ফিফা র্যাংকিংয়ে স্থান পায় মোট ২১১টি দেশ। সেখানে ২৫ কোটির বেশি জনসংখ্যার দেশ পাকিস্তানের অবস্থা দেখেই বোঝা যাচ্ছে, তাদের ফুটবল কতটা পিছিয়ে। অদূর ভবিষ্যতে পাকিস্তান বিশ্বকাপে খেলা তো দূরে থাক, খেলার স্বপ্নও দেখতে পারবে না হয়তো।
অথচ, সেই পাকিস্তানেরই একজন ফুটবলার এবার খেলছেন বিশ্বকাপে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ইতিহাসের পাতায় প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের নাম উচ্চারিত হলো এক তরুণ ফুটবলারের কারণে।
অবাক হলেন? র্যাংকিংয়ে ১৯৮তম দেশটির ফুটবলার কিভাবে খেলছেন বিশ্বকাপে? প্রশ্ন আসতেই পারে।
মূলতঃ এই ফুটবলারটির নাম জিদান ইকবাল। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ফক্সবরোর বোস্টন স্টেডিয়ামে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে ৫৯ মিনিটে মাঠে নামেন ইরাকের মিডফিল্ডার জিদান ইকবাল। ম্যাচে ইরাক ৪-১ গোলে পরাজিত হলেও পাকিস্তানের ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এটি ছিল এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। কারণ, জিদানই প্রথম পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ফুটবলার যিনি বিশ্বকাপে খেললেন।
গ্রুপ ‘আই’-এর ম্যাচে আংলিং হালান্ডের জোড়া গোলে নরওয়ে সহজ জয় তুলে নেয়। ৪০ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা ইরাকের শুরুটা সুখকর হয়নি। তবে ম্যাচের ফলাফলের আড়ালে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন জিদান ইকবাল।
বিশ্বকাপে তার মাঠে নামার মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে বিশ্বকাপের এক নতুন সম্পর্ক তৈরি হলো। পাকিস্তান জাতীয় দল এখনও ফিফা র্যাংকিংয়ের ১৯৮ নম্বরে অবস্থান করছে এবং কখনও বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলতে পারেনি। তাই জিদানের এই উপস্থিতি দেশটির ফুটবল ইতিহাসে এক বিশেষ অধ্যায় হয়ে থাকবে।
জিদান আম্মার ইকবালের জন্ম ২০০৩ সালের ২৭ এপ্রিল ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টারে। তার বাবা আমার ইকবাল পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের সাহিওয়াল শহরের বাসিন্দা। অন্যদিকে তার মা আয়াত ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন।
ফলে জন্মসূত্রে জিদানের সামনে ছিল তিনটি জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ- ইংল্যান্ড, পাকিস্তান অথবা ইরাক। ম্যানচেস্টারে বেড়ে ওঠা এই তরুণ শেষ পর্যন্ত বেছে নেন ইরাককে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকেই শুরু
জিদানের ইরাক জাতীয় দলে যোগ দেওয়ার গল্পটিও বেশ ব্যতিক্রমী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি জনপ্রিয় ইরাকি পেজ প্রথম তার পারিবারিক শিকড় সম্পর্কে জানতে পারে। পরে সেই তথ্য পৌঁছে যায় ইরাক ফুটবল ফেডারেশনের কাছে। এরপর ফেডারেশনের কর্মকর্তারা জিদান এবং তার পরিবারের সঙ্গে একাধিক ভিডিও কলে যোগাযোগ করেন। দীর্ঘ আলোচনার পর তাকে ইরাকের জার্সিতে খেলার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
কেন ইরাককে বেছে নিয়েছিলেন- এই প্রশ্নের জবাবে এক সাক্ষাৎকারে জিদান বলেছিলেন, ‘ইরাকের সমর্থকরা এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা ইরাকিদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা পেয়েছি, সেটাই আমাকে মুগ্ধ করেছে। ফেডারেশনও আমাকে দলে আনার জন্য অনেক চেষ্টা করেছে। কেউ যখন আপনাকে এতটা ভালোবাসা দেখায়, তখন সেটার প্রতিদান দেওয়াটাই স্বাভাবিক।’
পাকিস্তানের জন্য অনুপ্রেরণা
বিশ্বকাপে জিদানের অংশগ্রহণ পাকিস্তানের ফুটবলের জন্যও একটি বড় অনুপ্রেরণা। যদিও তিনি ইরাকের প্রতিনিধিত্ব করছেন, তবুও তার পাকিস্তানি শিকড় দেশটির তরুণ ফুটবলারদের জন্য নতুন স্বপ্নের দুয়ার খুলে দিয়েছে।
পাকিস্তান এখনও বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার অনেক দূরে। তবে জিদান ইকবালের এই ঐতিহাসিক উপস্থিতি দেখিয়ে দিল, প্রতিভা এবং সুযোগ একসঙ্গে মিললে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ফুটবলাররাও বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিজেদের জায়গা করে নিতে পারেন।
আইএইচএস/
Editor: TECHNO NEWS
Email :info@technoviable.com
Mobile : +8801914219906
৬২২, ফ্ল্যাট নং ১৩/বি, এভারগ্রীন মিজান স্কয়ার, বেগম রোকেয়া সরণি, ঢাকা-১২১৬, বাংলাদেশ।
Copyright TechnoNews 2025 | Developed By Technoviable