ডিজিটাল যুগে সব কাজেই গ্যাজেট ব্যবহার করছেন সবাই। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় স্মার্টফোন। বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর প্রায় ১.৩ থেকে ১.৬ বিলিয়ন (১৩ থেকে ১৬০ কোটি) স্মার্টফোন বিক্রি হয়। ফলে প্রতিদিনই বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিক বর্জ্য তৈরি হয়। পুরোনো মোবাইল, ল্যাপটপ, রিমোট, সার্কিট বোর্ড এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতি অনেক সময় শুধু আবর্জনা মনে করে ফেলে দেন। তবে জানেন কি, এই ই-ওয়েস্টেজের মধ্যে রয়েছে মূল্যবান ধাতু সোনা?
প্রতিটি ইলেকট্রনিক ডিভাইসেই অল্প পরিমাণে সোনা ব্যবহৃত হয়, যা বৈদ্যুতিক সংযোগ ও কন্ডাক্টিভিটি উন্নত করতে সাহায্য করে। যদিও একটি ফোন থেকে খুব কম সোনা পাওয়া যায়। তবে নতুন গবেষণা দেখিয়েছে যে এই বর্জ্যগুলোকে একত্র করে সোনা বের করা এখন অনেক সহজ।
চীনের বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি এমন একটি সহজ এবং দ্রুত পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন, যা দিয়ে ইলেকট্রনিক বর্জ্য থেকে স্বল্প সময়ের মধ্যে সোনা নিস্কাষণ করা সম্ভব। এই পদ্ধতিতে ঘরের তাপমাত্রায় প্রায় ২০ মিনিটের মধ্যে সোনা আলাদা করা যায় এবং খরচও প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কম।
গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, পুরোনো মোবাইল ফোনের সিপিইউ এবং প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড থেকে ৯৮ শতাংশের বেশি সোনা এবং প্রায় ৯৩ শতাংশ প্যালাডিয়াম বের করা সম্ভব। এটি অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ধাতুগুলো পুনর্ব্যবহার করা যায়।
আগের ধাতু নিস্কাষণ পদ্ধতিতে বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহৃত হতো, যা মানুষের স্বাস্থ্য এবং পরিবেশের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করত। নতুন পদ্ধতিতে সেলফ-ক্যাটালিটিক লিচিং মেকানিজম ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে ক্ষতিকর রাসায়নিক প্রয়োজন হয় না। এর জন্য পটাসিয়াম পেরোক্সিমোনোসালফেট (পিএমএস) এবং পটাসিয়াম ক্লোরাইড (কেসিআই) এর সহজ সমাধান ব্যবহার করা হয়। ধাতুর পৃষ্ঠে এই সমাধান লাগালে ধাতু নিজে থেকেই প্রতিক্রিয়া শুরু করে এবং সোনা আলাদা করা যায়।
লিসেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক ভূতাত্ত্বিক ডেভ হলওয়েল বলেন, স্বর্ণ সমৃদ্ধ আকরিক মজুদে প্রতি মিলিয়নে এক বা দুই অংশ সোনার ঘনত্ব রয়েছে। যা প্রতি টনে ১ গ্রাম বা ২ গ্রাম। ব্রাসেলস-ভিত্তিক প্রযুক্তি কোম্পানি উমিকোর বিবিসিকে জানিয়েছে, যে আপনি আসলে মাত্র ৩৫টি ফোন থেকে এই পরিমাণ সোনা পেতে পারেন।
অন্যভাবে দেখলে, উমিকোর বলেন যে এক টন পুরোনো ফোন (ব্যাটারি ছাড়া ওজন করা) থেকে প্রায় ৩০০ গ্রাম সোনা পাওয়া যায়। তবে এই নতুন পদ্ধতি শুধু পরিবেশ রক্ষায় সাহায্য করবে না, বরং সোনার পুনর্ব্যবহারে অর্থনৈতিক সুবিধাও বৃদ্ধি করবে।
ডেভ হলওয়েলের মতে, খনি থেকে প্রতি বছর প্রায় ২,৭০০ টন সোনা উৎপাদিত হয়-প্রতিদিন প্রায় ৭.৪ টন। মোবাইল ফোন থেকে তা পেতে আমাদের ৩০ কোটি সোনা পুনর্ব্যবহার করতে হবে। আর যদি আমরা প্রতিদিন তা করি, তাহলে বিশ্বের সক্রিয় ব্যবহারের আনুমানিক সাত বিলিয়ন মোবাইল ফোন ২৩ দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। তাই এভাবে সোনা সংগ্রহ করা বেশ কঠিন ও সময়সাপেক্ষ।
আরও পড়ুনচোখের পলকে ফোনের চার্জ শেষ হচ্ছে, সমাধান করুন নিজেই
ব্যবহারকারীর শরীরের তাপমাত্রার সঙ্গে বদলাবে ফোনের রং
সূত্র: বিবিসি,মিডিয়াম
কেএসকে
Editor: TECHNO NEWS
Email :info@technoviable.com
Mobile : +8801914219906
৬২২, ফ্ল্যাট নং ১৩/বি, এভারগ্রীন মিজান স্কয়ার, বেগম রোকেয়া সরণি, ঢাকা-১২১৬, বাংলাদেশ।
Copyright TechnoNews 2025 | Developed By Technoviable