এবারের নির্বাচন দেশের ইতিহাসে ‘ওয়ান অব দ্য বেস্ট ইলেকশন’ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার যেসব লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছিল তা প্রায় ৯০ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম প্রধান উপদেষ্টার বরাত দিয়ে এসব কথা বলেন।
নির্বাচন হবে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণশফিকুল আলম জানান, প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের পূর্ববর্তী পরিস্থিতি উল্লেখ করে বলেন, ‘আগের নির্বাচনগুলো ছিল প্রকৃত অর্থে নির্বাচন নয় বরং এক ধরনের মুখি বা ‘ফেক ইলেকশন’।’ তবে এবারের নির্বাচন হবে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ এবং গ্রহণযোগ্য।
তিনি জানান, নির্বাচনের মাত্র দুই দিন বাকি এবং সরকার প্রায় লক্ষ্য পূরণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে।
প্রধান উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেছেন, এবারের নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক কাঠামোতে অভূতপূর্ব পরিবর্তন আনবে।
তিনি আরও বলেন, এবার প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা নির্বাচনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হচ্ছেন, ফলে তারা দেশের বিভিন্ন বিষয়ে আরও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।
প্রযুক্তি ব্যবহারে নিরাপদ ও স্বচ্ছ ভোট প্রক্রিয়াপ্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, এবারের নির্বাচনে প্রযুক্তির যথেষ্ট ব্যবহার হচ্ছে। ভোট দেওয়ার পদ্ধতি সহজ করতে বিশেষ অ্যাপ চালু করা হয়েছে। প্রায় ৪৩,০০০ কেন্দ্রে নিরাপত্তা মনিটরিং চালু করা হয়েছে। ‘নির্বাচন বন্ধু’ অ্যাপ ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রায় ২৫,৭০০ কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বডি ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থাগুলো নির্বাচনকে আরও স্বচ্ছ, সহজ এবং নিরাপদ করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বাংলাদেশের নির্বাচনকে গুরুত্ব দিচ্ছেন উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টার বরাত দিয়ে শফিকুল আলম জানান, বিভিন্ন দেশের প্রচুর নির্বাচনি পর্যবেক্ষক আসছেন। এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থার প্রতিফলন।
তিনি উল্লেখ করেন, আগের তিনটি নির্বাচনে এমন গ্রহণযোগ্যতা ছিল না।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও বলা হয়, নির্বাচন ঘিরে এখন পর্যন্ত কোনো উত্তেজনা সৃষ্টি হয়নি। রাজনৈতিক দলগুলো শান্তিপূর্ণভাবে প্রচারণা চালাচ্ছে এবং তাদের লিডারদের উপস্থিতিতে ব্যাপক জনসমাগম হচ্ছে।
স্থিতিশীলতা, বিচার ও অর্থনীতিপ্রধান উপদেষ্টা দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। আগের স্বৈরাচার ও তাদের সহযোগীদের গুরুতর অপরাধের বিচার শুরু হয়েছে। দেশকে গৃহীত নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে আসা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করে বৃদ্ধির পথে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সঙ্গে আলোচনায় দেশের স্বার্থ সংরক্ষিত হয়েছে।
শফিকুল আলম বলেন, যদি আমার আচরণে কারও মন খারাপ হয়ে থাকে, আমি অন্তরের গভীর থেকে দুঃখ প্রকাশ করছি। আশা করছি, নির্বাচিত হয়ে যারা আসবেন— তাদের প্রেস সেক্রেটারি হোক বা প্রেস উইং— গণমাধ্যমের প্রতি আমাদের এই স্বচ্ছতার ধারাকে বজায় রাখবেন। জনগণ সরকারের কার্যক্রম জানতে সর্বোচ্চ অধিকার রাখে এবং গণমাধ্যমের দায়িত্ব হচ্ছে সেই তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
এমইউ/এমআইএইচএস/
Editor: TECHNO NEWS
Email :info@technoviable.com
Mobile : +8801914219906
৬২২, ফ্ল্যাট নং ১৩/বি, এভারগ্রীন মিজান স্কয়ার, বেগম রোকেয়া সরণি, ঢাকা-১২১৬, বাংলাদেশ।
Copyright TechnoNews 2025 | Developed By Technoviable