ইরানবিরোধী যুদ্ধে নিজ দেশের অবস্থান সমর্থন করতে না পেরে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) পদত্যাগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী কেন্দ্রের পরিচালক জো কেন্ট। ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ শিবিরের একজন হয়েও তার এমন সিদ্ধান্ত মার্কিন রাজনীতিতে বেশ প্রভাব ফেলবে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত তার পদত্যাগপত্রে কেন্ট স্পষ্টভাবে লিখেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে সমর্থন জানাতে আমার বিবেক সাড়া দিচ্ছে না। ইরান আমাদের দেশের জন্য কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি ছিল না এবং এটা স্পষ্ট যে ইসরায়েল ও তাদের প্রভাবশালী মার্কিন লবির চাপেই এই যুদ্ধ শুরু করা হয়েছে।
৪৫ বছর বয়সী কেন্ট স্পেশাল ফোর্সের সাবেক সদস্য, যিনি ১১টি যুদ্ধ মিশনে অংশ নিয়েছেন এবং একাধিক ব্যক্তিগত-রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে সামরিক ও গোয়েন্দা ক্ষেত্রে ব্যাপক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
তার স্ত্রী শ্যানন কেন্ট ২০১৯ সালে সিরিয়ায় আত্মঘাতী হামলায় নিহত হন। সামরিক জীবনের পর কেন্ট সিআইএতে প্যারামিলিটারি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ও পরে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে দুইবার ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের কংগ্রেস নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।
কেন্টের পদত্যাগ ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে ইরান যুদ্ধের বিরুদ্ধে সবচেয়ে উচ্চপ্রোফাইল প্রতিবাদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তার মতে, ট্রাম্প প্রশাসন নির্বাচনী প্রচারণার সময় যে নীতিমালা ও পররাষ্ট্রনীতি তুলে ধরেছিলেন, তার সাথে বর্তমান যুদ্ধের সিদ্ধান্ত মিলছে না। তিনি লেখেন, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত বুঝা যেত যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধগুলো একটি ফাঁদ, যা আমাদের মতো দেশপ্রেমিকদের প্রাণ কেড়ে নেয় ও দেশের সম্পদ ধ্বংস করে। পদত্যাগপত্রে তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, ইরাক ও আফগানিস্তানের অভিজ্ঞতা তাকে এই ধরনের সিদ্ধান্তের ঝুঁকি সম্পর্কে সরাসরি সচেতন করেছে।
কেন্টের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তারা বিদেশে সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। পদত্যাগের পর গ্যাবার্ড নিজেকে কেন্টের অবস্থান থেকে দূরে রেখেছেন ও ট্রাম্পের নীতিকে সমর্থন জানিয়েছেন।
এদিকে, কেন্টের পদত্যাগ ট্রাম্পের নীতিতে সরাসরি পরিবর্তন আনবে কি না তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে মতবিভাজন রয়েছে। ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার পল কুইর্ক বলেন, উচ্চপর্যায়ের পদত্যাগ প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তে বিরোধিতা হিসেবে দেখা হয়, তবে একা কেন্টের পদত্যাগ কি বড় প্রভাব ফেলবে তা অনিশ্চিত। তবে এটি কংগ্রেসের একই দলের সদস্যদের মধ্যে প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করবে।
রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও বিভক্ত। ট্রাম্প বলেন, তিনি ভালো মানুষ, তবে নিরাপত্তা বিষয়ে দুর্বল। হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট কেন্টের বক্তব্যকে ‘অপমানজনক ও হাস্যকর’ উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে কিছু রক্ষণশীল রাজনীতিক কেন্টের সাহস ও নৈতিক অবস্থানকে প্রশংসা করেছেন।
পদত্যাগপত্রে কেন্ট উল্লেখ করেছেন যে উচ্চপদস্থ ইসরায়েলি কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী মার্কিন গণমাধ্যমের বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা ট্রাম্পকে বিশ্বাস করিয়েছে যে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি। তিনি বলেন, ইরাক যুদ্ধের সময়ও একই কৌশলে আমাদের জড়িয়ে ফেলা হয়েছিল, যেখানে হাজার হাজার নাগরিক প্রাণ হারিয়েছে। আমরা আবার সেই ভুল করতে পারি না।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, কেন্টের পদত্যাগ রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে। ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ সমর্থক ও রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যে এ ঘটনা অসন্তোষের ইঙ্গিত দিতে পারে। কেন্ট একজন সাবেক স্পেশাল ফোর্সেস সদস্য এবং দীর্ঘদিন ট্রাম্পের সমর্থক, এর ফলে তার সমালোচনা রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে গুরুত্ব বহন করছে।
একই সঙ্গে কিছু সমালোচক কেন্টের পদত্যাগকে ইহুদিবিদ্বেষী ইঙ্গিত হিসেবে দেখেছেন, কারণ তিনি ইরানের হুমকিকে ইসরায়েলের প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তবে কেন্টের বক্তব্য মূলত বিবেক ও সামরিক অভিজ্ঞতার আলোকে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির সঙ্গে তার অসন্তোষ প্রকাশ।
সংক্ষেপে, জো কেন্টের পদত্যাগ ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতি নিয়ে বিতর্ক ও সমালোচনা আরও বাড়িয়েছে। এটি রাজনৈতিক ও সামরিক মহলে সচেতনতা বাড়িয়েছে, তবে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে তাৎক্ষণিক পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা কম। তবে ভোটার ও কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়া এ ঘটনা দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
এসএএইচ
Editor: TECHNO NEWS
Email :info@technoviable.com
Mobile : +8801914219906
৬২২, ফ্ল্যাট নং ১৩/বি, এভারগ্রীন মিজান স্কয়ার, বেগম রোকেয়া সরণি, ঢাকা-১২১৬, বাংলাদেশ।
Copyright TechnoNews 2025 | Developed By Technoviable