নওগাঁর বদলগাছীতে একটি অসুস্থ ছাগলের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নাটকীয়তা, অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে ছাগল হত্যার অভিযোগ তুলে ধরলেও তদন্তে এর সত্যতা পায়নি পুলিশ। উল্টো অসুস্থ ছাগলের স্বাভাবিক মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে প্রচার করে ওই কর্মচারীকে ফাঁসিয়ে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা আদায়ের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে অভিযোগকারী গৃহবধূর বিরুদ্ধে।
রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে বদলগাছী উপজেলা পরিষদ চত্বরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় একটি মৃত ছাগল ও ছাগলের দুটি বাচ্চা নিয়ে এসে কান্নাকাটি করেন বিলাসবাড়ী ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের গৃহবধূ ফাতেমা বেগম। তিনি অভিযোগ করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহায়ক আব্দুর রশিদ ছাগলটির পেটে লাথি মারায় সেটি মারা গেছে।
ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। এ ঘটনায় ফাতেমা বেগম বদলগাছী থানায় আব্দুর রশিদসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগে তিনি দাবি করেন, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে অভিযুক্তরা তার গরু ও ছাগল মারধর করেন। এতে একটি ছাগল গুরুতর আহত হয়ে পরের দিন মারা যায়। দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে দাবি করেন।
তবে সরেজমিনে অনুসন্ধানে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগে উল্লেখিত দুই সাক্ষীর একজন ইউপি সদস্য ও একজন গ্রাম্য পশুচিকিৎসক ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেননি।
তাদের দাবি, ছাগলটি আগে থেকেই অসুস্থ ছিল এবং স্বাভাবিক কারণেই মারা গেছে। পুলিশ অভিযোগের সত্যতা না পেলেও এ নিয়ে কয়েক দফায় আব্দুর রশিদের সঙ্গে দফারফার চেষ্টা চালান ফাতেমা বেগম।
এ বিষয়ে গ্রাম্য পশুচিকিৎসক রেজাউল করিম জানান, ছাগলটি বাচ্চা দেওয়ার আগে থেকেই অসুস্থ ছিল। ওইদিন ডাকার পর গিয়ে তিনি সেটিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পান। শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না।
তিনি বলেন, ‘কেউ লাথি মারা অথবা অন্য কোনো আঘাতের ঘটনায় মৃত্যু হলে অবশ্যই শরীরে আঘাতের চিহ্ন অথবা নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হওয়ার আলামত থাকতো। অসুস্থতার কারণেই ছাগলটির মৃত্যু হয়েছে।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য হেলালুজ্জামান বলেন, ‘ভাইরাল ভিডিওতে যেভাবে অভিযোগ করা হয়েছে তার কোনো সত্যতা মেলেনি। লাথি মারার ঘটনায় ছাগলের মৃত্য হওয়া অযৌক্তিক। দুই পক্ষই নিজেদের প্রতিবেশী হওয়ায় পাঁচ হাজার টাকা জরিমানার মাধ্যমে আপস মীমাংসা করে দেওয়া হয়েছে। তবে জরিমানার টাকা এখনো আদায় হয়নি।’
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুর রশিদ বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে। ইউএনও অফিসে এসে কান্নাকাটির ঘটনাটিও পরিকল্পিত ছিল। ফেসবুকে ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে প্রথমে তার কাছে বড় অংকের টাকা দাবি করা হয়। যা পরে কমিয়ে পাঁচ হাজার টাকায় নামানো হয়। তবে তিনি কোনো অর্থ দেননি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফাতেমা বেগম। তার দাবি, সুস্থ ছাগলটিকে লাথি মারায় সেটি মারা গেছে। পরে তিনি বিষয়টি জানাতে ইউএনও কার্যালয়ে যান এবং থানায় অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘ছাগল হত্যার অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। এ কারণে কারও বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে দুই পক্ষ নিজেদের মধ্যে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেছে বলে জানতে পেরেছি।’
আরমান হোসেন রুমন/এসআর/এএসএম
Editor: TECHNO NEWS
Email :info@technoviable.com
Mobile : +8801914219906
৬২২, ফ্ল্যাট নং ১৩/বি, এভারগ্রীন মিজান স্কয়ার, বেগম রোকেয়া সরণি, ঢাকা-১২১৬, বাংলাদেশ।
Copyright TechnoNews 2025 | Developed By Technoviable