‘ছোট মেয়ে গরুর মাংস খেতে খুব পছন্দ করে। মেয়েটার জন্য এত দূর আসা। রাজমিস্ত্রির কাজ করি, টাকা দিয়ে গরুর মাংস কেনা সম্ভব হয় না।’
কথাগুলো বলছিলেন কামাল আহমেদ। ঈদের দিন দুপুরে রাজধানীর পল্লবীর কালশী বাসস্ট্যান্ডে বরিশালের গৌরনদীগামী বাসের অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। পাশে ছিল একটি ব্যাগ আর কয়েকটি পলিথিনে ভরা কোরবানির মাংস।
কামালের মতো আরও অনেক নিম্নআয়ের মানুষকে ঈদের দিন বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিতে দেখা গেছে। কারও হাতে মাংস ভর্তি ব্যাগ, কেউ আবার ছোট ছোট প্যাকেটে ভাগ করে নিয়ে যাচ্ছেন পরিবারের জন্য। কেউ যাচ্ছেন ঢাকার আশপাশের জেলায়, কেউ দূরের গ্রামে।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ঈদুল আজহার দিনে রাজধানীর কালশী, মিরপুর ও আশপাশের এলাকায় ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।
ঈদুল আজহায় সামর্থ্যবান মুসলমানরা পশু কোরবানি করলেও নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত অনেক পরিবার কোরবানি দিতে পারেনি। পরিবারের সদস্যরা আগেই গ্রামের বাড়ি চলে গেলেও অনেক কর্মজীবী মানুষ ঈদের দিন দুপুর পর্যন্ত রাজধানীতেই ছিলেন। বিভিন্ন বাসা ও পরিচিতজনের কাছ থেকে কোরবানির মাংস সংগ্রহ করে তারা ছুটছেন গ্রামের বাড়ির পথে।
ঈদের আনন্দে যখন শহরের অনেক পরিবার ব্যস্ত, তখন রাজধানীর বাসস্ট্যান্ডগুলোতে দেখা গেছে অন্য এক বাস্তবতা। কারও হাতে কোরবানির মাংসের ছোট ব্যাগ, কারও চোখে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর তাড়না। সামর্থ্য না থাকলেও ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে মাংস নিয়েই বাড়ি ফিরছেন নিম্নআয়ের মানুষ।
আরও পড়ুনস্বপ্ন ছিল লাভের, ফিরছেন লোকসানের বোঝা নিয়ে কোরবানির চামড়া সংগ্রহ চলছে, দামে খুশি নন ফড়িয়ারা
মিরপুর এলাকার কয়েকটি বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করেন সাবিনা খাতুন। ঈদের আগে তার পরিবারের সদস্যরা গাজীপুর চলে গেলেও তিনি ঢাকায় থেকে যান কাজের কারণে। ঈদের দিন দুপুরে তিনিও মাংস ভর্তি ব্যাগ নিয়ে বাসের অপেক্ষা করছিলেন।
জাগো নিউজকে সাবিনা খাতুন বলেন, মাংসের প্যাকেট দেখে বাসে উঠতে দিতে চায় না। সিএনজিচালিত অটোরিকশা কিংবা প্রাইভেটকারে যাওয়ার সামর্থ্য নেই। কালশী থেকে গাজীপুরের কোনো বাস পেলেই উঠে যাওয়ার চেষ্টা করছি।
কোরবানির পশু জবাই ও চামড়া সংগ্রহের কাজে যুক্ত ছিলেন বিভিন্ন মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। কাজ শেষে অনেকেই বিভিন্ন বাসা থেকে কোরবানির মাংস পেয়েছেন। সেই মাংস নিয়ে তারাও ছুটছেন গ্রামের বাড়ির পথে।
কথা হয় লিমন আহমেদ নামের এক মাদরাসা ছাত্রের সঙ্গে। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, সকাল থেকে পশু জবাইয়ের কাজে ব্যস্ত ছিলাম। বিভিন্ন জায়গা থেকে মাংস পেয়েছি। সেই মাংস নিয়ে বাড়ি যাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, আমার বাড়ি মানিকগঞ্জের সিংগাইরে। বাসায় নিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করা হবে। মা মাংস রান্না করবেন।
বরিশালগামী কামাল আহমেদ বলেন, বিকেল ৫টায় গাড়ি পেলে তিন থেকে চার ঘণ্টার মধ্যে বাড়ি পৌঁছাতে পারবো। এর বেশি দেরি হলে মাংস নষ্ট হয়ে যাবে।
এসএম/কেএসআর
Editor: TECHNO NEWS
Email :info@technoviable.com
Mobile : +8801914219906
৬২২, ফ্ল্যাট নং ১৩/বি, এভারগ্রীন মিজান স্কয়ার, বেগম রোকেয়া সরণি, ঢাকা-১২১৬, বাংলাদেশ।
Copyright TechnoNews 2025 | Developed By Technoviable