বিশ্বখ্যাত অভিনেত্রী, কণ্ঠশিল্পী ও নির্মাতা বারব্রা স্ট্রাইস্যান্ডকে সম্মানসূচক পাম দ’র দেওয়া হবে ৭৯তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে। চলতি বছরের ২৩ মে উৎসবের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তার হাতে এ সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।
দীর্ঘ কয়েক দশকের অসাধারণ ক্যারিয়ার ও বিশ্ব সংস্কৃতিতে গভীর প্রভাবের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা পাচ্ছেন ৮৩ বছর বয়সী বারব্রা স্ট্রাইস্যান্ড। তিনি একাধারে অভিনেত্রী, পরিচালক, প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার, গায়িকা ও গীতিকার — সব মিলিয়ে এক অনন্য শিল্পী বারব্রা স্ট্রাইস্যান্ড।
সম্মানসূচক পাম দ’র পেতে যােচ্ছন জানার পর প্রতিক্রিয়ায় বারব্রা বলেছেন, ‘এই সম্মান আমার জন্য গর্বের’। তিনি জানিয়েছেন, অতীতে যে শিল্পীরা এই সম্মান পেয়েছেন, তাদের কাজই দীর্ঘকাল তাকে অনুপ্রাণিত করেছে। সেই শিল্পীদের তালিকায় নিজের নাম উঠতে যাচ্ছে ভেবে তিনি গর্বিত।
তার মতে, কঠিন সময়ে সিনেমা মানুষের হৃদয়কে উন্মুক্ত করতে পারে। চলচ্চিত্র মানুষের অভিন্ন মানবিকতাকে তুলে ধরে এবং আমাদের দৃঢ়তার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। সিনেমা সীমান্ত ও রাজনীতির ঊর্ধ্বে কল্পনা-শক্তির মাধ্যমে আরও সহমর্মী একটি পৃথিবী গড়ার স্বপ্ন দেখায়।
বিস্ময়কর এক ক্যারিয়ার বারব্রা স্ট্রাইস্যান্ডের সাফল্য সংখ্যাতেই যেন বিস্ময় জাগায়। বড় পর্দায় তিনি অভিনয় করেছেন ১৯টি ছবিতে এবং পরিচালনা করেছেন তিনটি ছবি। তার ঝুলিতে রয়েছে দুটি অস্কার, যার মধ্যে ১৯৭৭ সালে তিনি প্রথম নারী হিসেবে ‘বেস্ট অরিজিনাল সঙ’ শাখায় অস্কার জিতেছিলেন। এছাড়া রয়েছে ১১টি গোল্ডেন গ্লোব। ১৯৮৪ সালে তিনি প্রথম নারী হিসেবে সেরা পরিচালক শাখায় গোল্ডেন গ্লোব জয়ের ইতিহাসও গড়েন।
সঙ্গীত জগতে তার প্রভাব অনন্য। তার ৩৭টি স্টুডিও অ্যালবাম, ১৩টি সাউন্ডট্র্যাক এবং জিতেছেন ১০টি গ্র্যামি। টানা ছয় দশক ধরে অ্যালবাম বিক্রির তালিকায় এক নম্বরে থাকা একমাত্র শিল্পীও তিনি।
নিজের পথরেখা এঁকেছেন নিজেইস্ট্রাইস্যান্ডের শিল্পীজীবন যেমন শক্তিশালী, তেমনি স্বাধীন ও সাহসী। তার পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘ইয়েনতেল’ সেই সাহসী মানসিকতার অন্যতম উদাহরণ। লেখক আইজ্যাক বাসাভিস সিঙার একটি গল্প পড়ে ১৯৬৩ সালে তিনি সেটার চলচ্চিত্রস্বত্ব কিনেছিলেন। নানান বাধা পেরিয়ে ছবিটি মুক্তি পেতে সময় লেগে যায় প্রায় ২০ বছর। শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেই ছবিটি প্রযোজনা, পরিচালনা ও অভিনয় করেন।
এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে হলিউডে বড় বাজেটের একটি ছবির দায়িত্ব প্রথমবারের মতো একজন নারী নির্মাতার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল — যা ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। পরে তিনি পরিচালনা করেন ‘দ্য প্রিন্স অব টাইডস’ এবং ‘দ্য মিরর হ্যাজ টু ফেসেস’। দুটিই অস্কারে মনোনয়ন পায়।
ব্রডওয়ে থেকে হলিউডেশৈশব থেকেই অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন ছিল স্ট্রাইস্যান্ডের। কিন্তু ক্যারিয়ারের শুরুটা হয় গান দিয়ে। ১৮ বছর বয়সে ক্যাবারে মঞ্চে, ২০ বছর বয়সে ব্রডওয়েতে এবং ২১ বছর বয়সে প্রথম অ্যালবামের মাধ্যমে তিনি সাড়া ফেলেন। ২৬ বছর বয়সে উইলিয়াম ওয়ালার পরিচালিত ‘ফানি গার্ল’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে জিতে নেন প্রথম অস্কার। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে ‘হেলো ডলি’, ‘আ স্টার ইজ বর্ন’, ‘দ্য ওয়ে উই ওয়্যার’, ‘নাটস’ ও ‘মিট দ্য ফোকারস’।
সমাজকর্মেও ছিলেন সক্রিয় সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় বারব্রা স্ট্রাইস্যান্ড। ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত দ্য স্ট্রাইস্যান্ড ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তিনি নারীস্বাস্থ্য, লিঙ্গ সমতা, সংখ্যালঘু অধিকার, পরিবেশ সংরক্ষণ, চিকিৎসা গবেষণা এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিল্পশিক্ষা নিয়ে কাজ করছেন। বিশেষ করে নারীদের হৃদরোগ সচেতনতা বাড়াতে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন বারব্রা স্ট্রাইস্যান্ড ওমেনস হার্ট সেন্টারের মাধ্যমে।
কান উৎসবে প্রথমবারএবারই প্রথমবারের মতো কান চলচ্চিত্র উৎসবে উপস্থিত থাকবেন এই কিংবদন্তি শিল্পী। তার অসামান্য অবদানকে সম্মান জানিয়ে বিশ্ব চলচ্চিত্রের অন্যতম বড় এই উৎসব তাকে স্বাগত জানাতে যাচ্ছে লা ক্রোয়াজেতে। আজ কান কর্তৃপক্ষের সেই ঘোষণার মধ্যদিয়ে সেখানে শুরু হলো বারব্রার বিখ্যাত সংলাপ, ‘হেরো গর্জিয়াস!’
আরএমডি
Editor: TECHNO NEWS
Email :info@technoviable.com
Mobile : +8801914219906
৬২২, ফ্ল্যাট নং ১৩/বি, এভারগ্রীন মিজান স্কয়ার, বেগম রোকেয়া সরণি, ঢাকা-১২১৬, বাংলাদেশ।
Copyright TechnoNews 2025 | Developed By Technoviable