আন্তর্জাতিক নারী দিবসে আমরা প্রায়ই নারীর অধিকার, নিরাপত্তা বা অর্জনের কথা বলি। কিন্তু নারীর শরীর ও মনের স্বাভাবিক পরিবর্তনগুলো বোঝার বিষয়টি এখনও অনেক ক্ষেত্রেই আলোচনার বাইরে থেকে যায়।
বিশেষ করে ঋতুচক্রের সময় ও সারা মাসব্যাপী নারীর মুড পরিবর্তন - যা নিয়ে ভুল ধারণা বা হাস্যরসও কম হয় না।
বাস্তবে নারীর শরীরের ঋতুচক্র একটি জটিল কিন্তু স্বাভাবিক হরমোনগত প্রক্রিয়া। প্রতি মাসে শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরনের মতো হরমোনের ওঠানামা ঘটে, যা শুধু শারীরিক নয়, মানসিক অবস্থাতেও প্রভাব ফেলে। ফলে নারীর মুড সুইং হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ঋতুচক্র নারীর প্রজননস্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং এটি শরীরের স্বাভাবিকভাবে টিকে থাকার সঙ্গে জড়িত।
এই পরিবর্তনগুলোকে অনেকেই প্রকৃতির ঋতুর সঙ্গে তুলনা করেন - কারণ প্রতিটি ধাপে শরীর ও মনের অনুভূতিও ভিন্ন হতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক সারা মাসে একজন নারী কখন কী ধরনের মুডে থাকেন।
১. মেনস্ট্রুয়াল ফেজ: শরীরের শীতকাল
এসময় নারীর শরীর বিভিন্ন শারীরিক কষ্ট ও অস্বস্তির মধ্যে থাকে। ফলে ঋতুস্রাবের সময় শরীর স্বাভাবিকভাবেই ক্লান্ত ও সংবেদনশীল থাকতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে শক্তি কমে যায়, বিশ্রামের প্রয়োজন বাড়ে। এটি শরীরের জন্য এক ধরনের পুনর্গঠনের সময়। এসময় তাই মন-মেজাজও একটু খিটখিটে থাকে।
২. ফলিকুলার ফেজ: নতুন বসন্ত
ঋতুস্রাব শেষ হওয়ার পর ধীরে ধীরে নারী আবার তার শক্তি ফিরে পেতে থাকেন। মনও তুলনামূলক হালকা লাগে, কাজের প্রতি আগ্রহও বাড়ে। অনেকেই এই সময়কে সৃজনশীল বা পরিকল্পনার জন্য ভালো সময় বলে মনে করেন।
৩. ওভুলেশন: আত্মবিশ্বাসের গ্রীষ্ম
চক্রের মাঝামাঝি সময়টিতে অনেক নারীর মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও সামাজিকতা বেড়ে যেতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই সময় ইস্ট্রোজেনের মাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকায় শক্তি ও ইতিবাচক অনুভূতিও বেশি হতে পারে। এসময় নারী শরীর গর্ভধারণের উপযোগী থাকে, তাই সঙ্গীর প্রতি আকর্ষণও বেড়ে যেতে পারে।
৪. লুটিয়াল ফেজ: ধীরগতির শরৎ
ঋতুস্রাবের আগের এই ফেজটিতে অনেক নারীর মুড কিছুটা অস্থির হতে পারে। বিরক্তি, ক্লান্তি বা সংবেদনশীলতা বেড়ে যাওয়াকে অনেক সময় প্রিমেনস্ট্রুয়াল সিনড্রোম বা পিএমএস হিসেবে দেখা হয়। এই সময় শরীর কিছুটা ধীর গতিতে চলে।
তবে মনে রাখতে হবে, প্রতিটি নারীর অভিজ্ঞতা এক নয়। কারও ক্ষেত্রে পরিবর্তন খুব স্পষ্ট, আবার কারও ক্ষেত্রে খুবই মৃদু।
নারীর ঋতুচক্রকে বোঝা মানে শুধু একটি জৈবিক প্রক্রিয়াকে বোঝা নয় - বরং তার অনুভূতি, ক্লান্তি ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া। কাছের মানুষ যদি এই পরিবর্তনগুলোকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করেন, তবে তা পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহমর্মিতা বাড়াতে সাহায্য করে।
সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আমেরিকান কলেজ অব অবস্টেট্রিশিয়ানস অ্যান্ড গাইনোকোলজিস্টস
এএমপি/এমএস
Editor: TECHNO NEWS
Email :info@technoviable.com
Mobile : +8801914219906
৬২২, ফ্ল্যাট নং ১৩/বি, এভারগ্রীন মিজান স্কয়ার, বেগম রোকেয়া সরণি, ঢাকা-১২১৬, বাংলাদেশ।
Copyright TechnoNews 2025 | Developed By Technoviable