ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করা যায় না এবং ইরানি জনগণের অধিকার সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে সম্মত হবে না।
তার এ বক্তব্য এমন সময় এলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের কাছে আরও কঠোর শর্তযুক্ত একটি নতুন শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। এতে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, খসড়া চুক্তিতে নতুন পরিবর্তন এলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করা এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি চালুর বিষয়ে সমঝোতা আরও বিলম্বিত হতে পারে।
ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর আগে থেকেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছিল। ওই হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ইরান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা মিত্ররা সন্দেহ করে, তেহরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের কাছে আরও কঠোর একটি নতুন কাঠামো পাঠিয়েছে। তবে এর বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
ট্রাম্প বলেছেন, যেকোনো সমঝোতায় তার প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ থেকে বিরত রাখা এবং হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ-চলাচল পুনঃস্থাপন করা।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিশ্চয়তা হলো ইরানের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না। তারা এ বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
তবে ইরান এর আগেও ট্রাম্পের এমন দাবি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে দুই পক্ষের অবস্থান এখনো অনেক দূরে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় গালিবাফ বলেন, ইরানি জনগণের অধিকার পুরোপুরি রক্ষা হয়েছে—এ বিষয়ে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা কোনো চুক্তি অনুমোদন করবো না।
ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) খসড়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে নিয়মিত মতবিনিময় চলছে এবং উভয় পক্ষই বিভিন্ন সংশোধনী প্রস্তাব দিচ্ছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি এবং শেষ পর্যন্ত সম্ভাব্য সমঝোতাও প্রত্যাখ্যাত হতে পারে।
ইরান আরও জানিয়েছে, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বাস্তব আলোচনা শুরু করার আগে তারা বিদেশে আটকে থাকা ১২০০ কোটি ডলার ছাড় চায়। একই সঙ্গে ট্রাম্পের ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ধ্বংসের মন্তব্যকে ভিত্তিহীন বলে আখ্যা দিয়েছে তেহরান।
এ ছাড়া ইরান জোর দিয়ে বলেছে, যেকোনো চুক্তির আলোচনায় লেবাননের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
সূত্র: এএফপি
এমএসএম
Editor: TECHNO NEWS
Email :info@technoviable.com
Mobile : +8801914219906
৬২২, ফ্ল্যাট নং ১৩/বি, এভারগ্রীন মিজান স্কয়ার, বেগম রোকেয়া সরণি, ঢাকা-১২১৬, বাংলাদেশ।
Copyright TechnoNews 2025 | Developed By Technoviable